Type Here to Get Search Results !

Ceasefire Claim Row : ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ চাপে পড়ে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল, পরমাণু হুমকিকে গুরুত্ব দেয়নি ভারত: পশ্চিমাঞ্চলীয় সেনাপ্রধান

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে ভারতীয় সেনার তীব্র আক্রমণের মুখে দিশাহারা হয়ে পাকিস্তান মরিয়া হয়ে যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল বলে দাবি করলেন মনোজ কুমার কাটিয়ার। বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের তরফে পরমাণু হামলার হুমকি দেওয়া হলেও ভারত তা গুরুত্ব দেয়নি এবং ভবিষ্যতের যেকোনও পরিস্থিতির জন্য সেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান (জিওসি) কাটিয়ার বলেন, “আমাদের সেনা ভবিষ্যতের আকস্মিক পরিস্থিতিতে নির্ণায়ক প্রত্যাঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পরমাণু হুমকির সামনে ভারত পিছিয়ে আসবে না।” তাঁর দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সেনার কড়া পদক্ষেপে পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়। 

সেই কারণেই তারা যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায় এবং একই সঙ্গে পরমাণু হামলার হুমকি দেয়।কাটিয়ার আরও বলেন, পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছিল, “যদি পাতালে যেতে হয়, তবে অর্ধেক পৃথিবীকে সঙ্গে নিয়ে যাবে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, অতীতের তুলনায় ভারত এখন অনেক বেশি প্রস্তুত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও স্পষ্ট। তাঁর কথায়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও রকম আপস করা হবে না।পশ্চিমাঞ্চলীয় সেনাপ্রধান অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সেনাকর্তারা সে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জিগির তোলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, অভ্যন্তরীণ চাপে পড়েই এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়।প্রসঙ্গত, গত অগস্টে আমেরিকা সফরে গিয়ে ফ্লরিডার টাম্পায় এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বলেছিলেন, “আমরা একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি মনে হয় আমরা ধ্বংসের পথে এগোচ্ছি, তবে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ধ্বংস হব।”

 শিল্পপতি আদনান আসাদ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়।পাকিস্তানের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত একতরফা ভাবে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে। সেই প্রেক্ষিতেই পরমাণু শক্তির প্রসঙ্গ তুলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মুনির। যদিও ভারতের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।ভারতীয় সেনার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় তারা সর্বদা প্রস্তুত। যে কোনও উস্কানির জবাব যথাযথভাবে দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কাটিয়ারের মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, উপমহাদেশে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ। তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত কৌশলগত দিক থেকে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad