রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে অকারণে এমার্জেন্সি চেন বা আপৎকালীন শিকল টেনে ট্রেন থামানোর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর জানিয়েছেন যে, বিশেষ করে হাওড়া-বর্ধমান শাখায় এই প্রবণতা মারাত্মক আকার নিয়েছে, যেখানে মাসে গড়ে ১০০ বারেরও বেশি এই ঘটনা ঘটছে।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, যাত্রীরা স্টেশনে দেরি করে পৌঁছলে বা নিজেদের সুবিধামতো জায়গায় নামার জন্য কোনো জরুরি কারণ ছাড়াই চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে দিচ্ছেন। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, একটি দূরপাল্লার ট্রেনে কয়েক হাজার যাত্রী থাকেন এবং একজনের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে শুধু সেই ট্রেনের যাত্রীরাই ভোগান্তিতে পড়েন না, বরং পুরো রেলের সময়সূচি ও গতি ব্যাহত হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় রেল সুরক্ষা বাহিনী ইতিমধ্যে প্রচার শুরু করেছে এবং সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বৈধ কারণ ছাড়া চেন টানা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এখন থেকে কোনো ব্যক্তি যদি প্রাণঘাতী পরিস্থিতি, অগ্নিকাণ্ড বা গুরুতর অসুস্থতা ছাড়া চেন টানেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তির তালিকায় শুধু মোটা টাকা জরিমানাই নয়, জেলের ঘানি টানার পাশাপাশি অভিযুক্তের ছবি ও পরিচয় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। রেলের তরফে যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান যাতে তাড়াহুড়ো করে বা অন্যকে তোলার জন্য চেন টানার মতো বেআইনি পথে পা বাড়াতে না হয়। রেলের এই কঠোর অবস্থানকে সাধারণ যাত্রীরা স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এর ফলে ট্রেনের বিলম্ব কমবে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে। রেল কর্তৃপক্ষের এই নজরদারি ও শাস্তির ভয় ‘চেন টানা সংস্কৃতি’ বন্ধ করে রেল পরিষেবাকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

