রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সদ্য শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি কাব্যগ্রন্থে বিশেষভাবে উঠে এসেছে এসআইআর সংক্রান্ত হয়রানি ও মৃত্যুর প্রসঙ্গ। সেই আবহেই এ বার একই বিষয়কে কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সোমবার নিজের সমাজমাধ্যমে ‘আমি অস্বীকার করি’ শিরোনামের একটি কবিতা পোস্ট করেন অভিষেক। কবিতার প্রতিটি স্তবকে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং শাসকদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের সুর স্পষ্ট।
এসআইআর-এর জেরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, তালিকা-নির্ভর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভয়ের পরিবেশ সবই কবিতার ভাষায় প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন তিনি।রাজনৈতিক বক্তব্যের বদলে কবিতার পথ বেছে নেওয়াটা তৃণমূল শিবিরে বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। কবিতায় যে শব্দচয়ন ও ভাবনা উঠে এসেছে, তা অনেকাংশে বাম ও অতিবাম সাহিত্যধারার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। অভিষেক কবিতায় রাষ্ট্রকে এক ধরনের দমনমূলক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং নিজেকে এসআইআর-এর কারণে মৃত ও হয়রানির শিকার মানুষের ‘সাক্ষী’ হিসেবে উপস্থিত করেছেন। কবিতায় প্রায় ১৫০ জন মৃত্যুর উল্লেখও রয়েছে।এই কবিতার ভাবনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে কবি নবারুণ ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতা ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’-র। যেমন নবারুণ রাষ্ট্র ও সামাজিক নৈরাশ্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন, তেমনই অভিষেকও ‘মৃত্যু উপত্যকা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে এসআইআর-এর বাস্তবতাকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর কবিতায় ‘তালিকার শাসন’, ‘ভয়ের রাজত্ব’ এবং ‘রক্তের উপর কালির শাসন’-এর মতো শব্দবন্ধ স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।এই কবিতার প্রকাশ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, কবিতাকে হাতিয়ার করে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-বিরোধী, বিশেষত বামমনস্ক পাঠক ও ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিতে চাইলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার পর অভিষেকের এই কাব্যিক প্রতিবাদ তৃণমূলের রাজনৈতিক ভাষায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

