রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কেরালা উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। সব বাধা জয় করে কেরালার প্রথম দৃষ্টিহীন নারী বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হতে চলেছেন ৩২ বছর বয়সী অদম্য মেধাবী তরুণী হানা ফাতেমা। হানার এই সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং এটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মূলধারার পেশায় অন্তর্ভুক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কোট্টায়াম জেলার কাঞ্জিরাপল্লীর বাসিন্দা হানা ছোটবেলা থেকেই এক বিরল জিনগত সমস্যায় ভুগছেন, যার ফলে তাঁর দৃষ্টিশক্তি মাত্র ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ। তবে এই সীমাবদ্ধতাকে তিনি কখনোই নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমকে সম্বল করে তিনি আইনের পড়াশোনা শেষ করেন এবং অত্যন্ত কঠিন কেরালা জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না অডিও বুক এবং ব্রেইল পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে দিনরাত এক করে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। হানা বর্তমানে তাঁর প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন এবং শীঘ্রই তিনি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগটি ভারতের বিচার বিভাগে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, মেধা এবং একাগ্রতা থাকলে শারীরিক অক্ষমতা কখনোই সাফল্যের পথে অন্তরায় হতে পারে না। হানার এই লড়াই সমাজকে বার্তা দেয় যে, সমান সুযোগ পেলে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় পদে আসীন হয়ে সমাজ সংস্কারে অংশ নিতে পারেন। কেরালা হাইকোর্ট এবং রাজ্য সরকার এই নিয়োগের মাধ্যমে যে উদারতা ও প্রগতিশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। হানা ফাতেমা এখন হাজার হাজার সংগ্রামরত মানুষের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়। তাঁর এই উত্তরণ আগামীর বিচার ব্যবস্থাকে আরও সংবেদনশীল ও মানবিক করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

