রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নতুন বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জীবনে পরিবর্তন আনার আশা করেন বহু মানুষ। পাশাপাশি প্রতি বছরের গোড়ায় আর একটি বিষয় ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে থাকে ভবিষ্যদ্বাণী। নস্ট্রাদামুস বা বাবা ভাঙ্গার মতো ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা নতুন বছর সম্পর্কে কী ইঙ্গিত রেখে গিয়েছেন, তা জানতে আগ্রহের শেষ থাকে না। ২০২৬ সাল নিয়েও তেমন নানা ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে।
কোথাও বলা হচ্ছে যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা, আবার কোথাও রাজনৈতিক পালাবদল বা ভিন্গ্রহীদের সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত।এই তালিকায় সম্প্রতি যোগ হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর একদল ওঝা বা শামনের নাম। তাঁদের দাবি, ২০২৬ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে পেরুর রাজধানী লিমার কাছে তাঁদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে ওই ওঝারা বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে পূর্বাভাস দেন। সেই সময়ই ট্রাম্পের শারীরিক অসুস্থতা এবং ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে ভবিষ্যদ্বাণী করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে জুয়ান ডি ডিওস গার্সিয়া নামে এক ওঝা বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুত থাকা উচিত, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।”উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও ওই ওঝারা মাদুরোকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হবেন ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট। নতুন বছরের শুরুতেই মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর অনেকেই ওঝাদের বক্তব্যকে সত্যি বলে ধরে নিতে শুরু করেছেন।তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি কোনও বৈজ্ঞানিক বা প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণের উপর দাঁড়িয়ে নয়। পেরুর ওঝাদের ভবিষ্যদ্বাণীর কোনওটিই স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়নি। অনেকের মতে, এগুলি মূলত সাংস্কৃতিক রীতির অংশ, যা কিছু ক্ষেত্রে কাকতালীয় ভাবে মিলেও যেতে পারে। তবু সব মিলিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে করা এই ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে কৌতূহল এবং বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

