রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নেপালের কাঠমান্ডু থেকে তুরস্কের ইস্তানবুলগামী একটি তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমান বুধবার কলকাতায় জরুরি অবতরণ করে। মাঝ আকাশে বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা হওয়ায় পাইলট এই সিদ্ধান্ত নেন। ওই বিমানে ২৩৬ জন যাত্রী ছাড়াও পাইলট ও কেবিন ক্রু মিলিয়ে মোট কয়েকশো মানুষ ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, সবাই নিরাপদে রয়েছেন।
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, টার্কিশ ৭২৭ নম্বর বিমানটি উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক গোলযোগের ইঙ্গিত পায়। পাইলটের সন্দেহ হয়, বিমানের ডান দিকের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যেতে পারে। সেই সময় বিমানটি কলকাতার আকাশসীমার কাছাকাছি ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাইলট এবং জরুরি অবতরণের অনুমতি চান।অনুমতি মিলতেই বুধবার দুপুর ২টা ৪৯ মিনিট নাগাদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। অবতরণের পর দ্রুত সমস্ত যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। যদিও কারও শারীরিক ক্ষতি হয়নি, তবে হঠাৎ এই ঘটনার জেরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত বিমানটি কলকাতাতেই রাখা হয়েছে এবং ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পূর্ণ পরীক্ষানিরীক্ষার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিমানসংস্থার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।উল্লেখযোগ্য ভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিমান দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে। গত বছরের জুন মাসে অহমদাবাদ থেকে লন্ডনগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বহু প্রাণহানি ঘটে। পাশাপাশি, কিছু দিন আগেই মহারাষ্ট্রে একটি বিমান দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যু হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানযাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

