রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার ভোটারদের মন জয় করতে নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি পৌঁছে যাচ্ছে বাংলার ঘরে ঘরে। ‘জয় মা কালী’ স্মরণ করে চিঠির সূচনা করা হয়েছে। চিঠিতে রাজ্যের দুর্নীতি, অপশাসন এবং উন্নয়নের অভাবের অভিযোগ তুলে ধরে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে বাংলার মানুষের আবেগ ও উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে বিজেপি।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এগারো বছরে বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে কর্মসংস্থানের অভাব, নারী নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে দিতে দিচ্ছে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যও তুলে ধরা হয়েছে। জনধন যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, অটল পেনশন যোজনা এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার দাবি করা হয়েছে।চিঠিতে ভারতের বিভিন্ন মনীষীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের জীবনদর্শন অনুসরণ করে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে বাংলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্ব।সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর আবহে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইআর পরিস্থিতি বঙ্গ বিজেপির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তাই সিএএ প্রসঙ্গ সামনে এনে পুরনো ভোটভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করছে পদ্মশিবির।প্রশ্ন উঠছে, এই চিঠি কি সত্যিই ভোটমুখী বঙ্গবাসীর মন জয় করতে পারবে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আবেগ ও উন্নয়নের মিশ্র বার্তা দেওয়া হলেও তার প্রভাব কতটা হবে তা সময়ই বলবে। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই চিঠির প্রভাব কমিয়ে দেখছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের প্রচার কৌশলে ভোটের ফল পরিবর্তন হবে না।তৃণমূলের মতে, কেন্দ্র বারবার বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুললেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজ্যের মানুষ উন্নয়ন ও বাস্তব কাজের ভিত্তিতেই ভোট দেন। শাসক দলের নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এই ধরনের চিঠি রাজনৈতিক প্রচারের অংশ মাত্র।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে আবেগ, উন্নয়ন এবং পরিচয়ের রাজনীতি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই এই চিঠির প্রভাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। সামনে নির্বাচনী লড়াইয়ে এই ধরনের প্রচার কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার।

