রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের শুরুতেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে বলে জোর জল্পনা। তার আগেই শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি। ময়নার গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে ভাঙন ধরেছে গেরুয়া শিবিরে। পঞ্চায়েত সদস্যা-সহ প্রায় পাঁচশো পরিবারের তৃণমূলে যোগদানের ঘটনায় কার্যত হাতছাড়া হল গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত। ভোটের মুখে এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।সূত্রের খবর, সম্প্রতি আয়োজিত এক কর্মসূচিতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যা।
তাঁর সঙ্গে প্রায় পাঁচশো পরিবারও শাসক দলে যোগ দেন বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। এই দলবদলের ফলে পঞ্চায়েতের সংখ্যার অঙ্কে বড় পরিবর্তন এসেছে।তথ্য অনুযায়ী, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ছিল দশ এবং তৃণমূলের ছিল সাত। কিন্তু সাম্প্রতিক দলবদলের পর বিজেপির সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে আটে। অন্যদিকে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে নয়। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন তৃণমূলের দখলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং তা স্থানীয় স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে।পূর্ব মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের কেন্দ্র বলে পরিচিত।
সেই জেলাতেই বিজেপির ভিত নড়বড়ে হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে রাজনৈতিক মহল। অনেকে মনে করছেন, এই ভাঙন শাসকদলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে এবং সংগঠনকে আরও চাঙা করবে।যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলেই দাবি করছে। তাঁদের বক্তব্য, কয়েকজন সদস্য দল ছাড়লেও সংগঠনের ভিত অটুট রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই তাঁদের দাবি। বিজেপি নেতাদের মতে, মানুষ উন্নয়ন ও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নে ভোট দেবেন, পঞ্চায়েতের অঙ্কে সামান্য পরিবর্তনে নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে না।অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, এটি কেবল শুরু। তাঁদের মতে, বিজেপির ধস ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে আরও নেতাকর্মী শাসক দলে যোগ দেবেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, তথাকথিত ‘অধিকারী গড়’ বলে কিছু নেই, তা ফের প্রমাণিত হল।সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এই রাজনৈতিক পালাবদল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, এই ভাঙনের প্রভাব কতদূর গড়ায় এবং ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন কতটা দেখা যায়।

