রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শরীর প্রতিদিন নানা উপায়ে নিজের অবস্থা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। অনেক সময় যেসব লক্ষণকে অস্বস্তিকর বা বিব্রতকর মনে করা হয়, সেগুলোই আসলে সুস্থতার বার্তা বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের কিছু অদ্ভুত লক্ষণও স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ। এমনই কয়েকটি লক্ষণের কথা জেনে নেওয়া যাক, যেগুলো আসলে শরীর ভাল থাকার ইঙ্গিত দেয়।মলে হালকা থেকে মাঝারি গন্ধ থাকা স্বাভাবিক বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। অন্ত্রে খাবার সঠিকভাবে ভাঙার পর বর্জ্য শরীর থেকে বের হওয়ার সময় এই গন্ধ তৈরি হয়। পুরোপুরি গন্ধহীন মল অনেক সময় হজম প্রক্রিয়ার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই হালকা গন্ধ থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট তুলনামূলক কম ফোলা বা ‘ফ্ল্যাট’ থাকাও ভাল হজমের লক্ষণ। রাতে বিশ্রামের সময় শরীর হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। নিয়মিত পরিমাণে জল পান করলে এই স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক হজম ও অন্ত্রের কার্যকারিতা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বাহুমূলে হালকা গন্ধ হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অনেকেই শরীরের গন্ধ নিয়ে লজ্জা পান, তবে সম্পূর্ণ গন্ধহীনতা সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়। ঘাম ও শরীরের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়ার প্রতিক্রিয়ায় হালকা গন্ধ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। গভীর ঘুমের সময় মুখ দিয়ে সামান্য লালা পড়া অস্বাভাবিক নয়। সারাদিনের ক্লান্তির পর মস্তিষ্ক যখন গভীর ঘুমে প্রবেশ করে, তখন মুখের পেশি শিথিল হয়ে যায়। ফলে লালা বের হয়ে যেতে পারে। এটি বোঝায় যে শরীর ঠিকমতো বিশ্রাম নিচ্ছে।
অন্যদের তুলনায় ঠান্ডা কম লাগাও সুস্থ শরীরের লক্ষণ হতে পারে। শরীরের ব্রাউন ফ্যাট ঠিকভাবে কাজ করলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ভালো হয়। মেটাবলিজম ঠিক থাকলে শরীর পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। দিনের মাঝে মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং ফুসফুসে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মানসিক ও শারীরিক স্বস্তির ইঙ্গিত।সপ্তমত, খিদে পেলে পেটের গড়গড় শব্দ হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অন্ত্র খাবার হজমের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমনটাই বোঝায় এই শব্দ। হঠাৎ তীব্র খিদে পেলে এই ধরনের শব্দ হওয়া স্বাভাবিক বলে চিকিৎসকদের মত। প্রস্রাবের হালকা হলুদ রং সুস্থতার লক্ষণ। অনেকেই মনে করেন স্বচ্ছ প্রস্রাবই সবচেয়ে ভাল, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে হালকা হলুদ রং মানে শরীর ঠিকমতো হাইড্রেটেড। অতিরিক্ত স্বচ্ছ প্রস্রাব অনেক সময় অতিরিক্ত জলপান বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট এই লক্ষণগুলোই শরীরের সুস্থতার বার্তা দেয়। তাই এগুলোকে লজ্জা বা অস্বস্তির চোখে না দেখে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। সঠিক জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শরীরকে আরও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

