রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সোশাল মিডিয়ার দাপটে যখন বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশ কমছে, ঠিক তখনই পড়ুয়াদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে অভিনব উদ্যোগ নিয়ে নজির গড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুল। ছাত্রছাত্রীদের বইমুখী করতে ও তাদের বিবেকবোধ জাগ্রত করতে স্কুলের একটি ক্লাসরুমকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে সাজানো হয়েছে। ট্রেনের আদলে নির্মিত এই বিশেষ ক্লাসরুমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিবেক এক্সপ্রেস’।
স্কুলের ভিতরেই যেন ছুটছে এক জ্ঞানযান। তিনটি কামরাবিশিষ্ট এই ট্রেনের গায়ে আঁকা রয়েছে মোট ৪২টি বইয়ের ছবি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, গোটা ট্রেনটি যেন একটি চলমান বুকশেল্ফ। সম্প্রতি এই ব্যতিক্রমী ভবনের উদ্বোধন হতেই তা নজর কেড়েছে অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ, সমাজের নানা স্তরের মানুষের।স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান প্রজন্ম সোশাল মিডিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে বই পড়ার অভ্যাস কমছে, সীমিত হচ্ছে চিন্তাভাবনার পরিধি। বই থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মৌলিক চিন্তাধারা, ভালো-মন্দের বিচার এবং বিবেকবোধ গড়ে উঠছে না। এই পরিস্থিতি বদলাতেই ‘বিবেক এক্সপ্রেস’-এর ভাবনা।প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই জানান, বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, “মানুষের মধ্যে বিবেক ও মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করতে হলে ছোট থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সোশাল মিডিয়া কখনও সেই বিকল্প হতে পারে না। একমাত্র বই-ই পারে মানুষের চিন্তাকে শানিত করতে।”স্কুলের এই অভিনব প্রয়াস শুধু ক্লাসরুমের চেহারাই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে পড়াশোনার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গিও। শিক্ষা যে শুধুই নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষ হয়ে ওঠার পথ এই বার্তাই দিচ্ছে ‘বিবেক এক্সপ্রেস’।

