রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিশ্ব রাজনীতির ময়দানে নতুন করে শক্তি বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে আমেরিকা। চলমান শুল্ক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই একটি নতুন কৌশলগত জোট গঠনের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন। আর সেই প্রস্তাবিত জোটের কেন্দ্রে ভারত এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত। শিবিরের ওই দূতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই জোটে ভারতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর স্পষ্ট দাবি, অর্থনৈতিক শক্তি, সামরিক সক্ষমতা ও ভূ কৌশলগত অবস্থানের নিরিখে দিল্লিকে বাদ দিয়ে কোনও বৈশ্বিক জোটই সফল হতে পারে না। কেন ভারতের উপর এত জোর, বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতকে সামনে রেখেই শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে আমেরিকা। বিশাল বাজার, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান সব মিলিয়ে ভারত এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ট্রাম্পের দূত জানিয়েছেন, আমরা যদি ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে চাই, তাহলে দিল্লিকে সঙ্গে নিয়েই তা করতে হবে। শুল্ক সংঘাতের আবহে নতুন সমীকরণ বর্তমানে একাধিক দেশের সঙ্গে আমেরিকার শুল্ক ও বাণিজ্য সংঘাত চলছে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জোট গড়ে তোলা এবং বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারদের একত্র করা ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আমেরিকা। ভারতের অবস্থান যদিও আমেরিকার তরফে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে, তবে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত সবসময়ই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এই জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে দিল্লি অত্যন্ত হিসেব করেই এগোবে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর দিল্লির দিকে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের নজর ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে। ভারত যদি এই নতুন জোটে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনীতির সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি জোট নয় বরং ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতির দিশা নির্ধারণ করতে পারে।
