রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছেন সুনেত্রা পওয়ার। অজিত পওয়ারের প্রয়াণের পর এনসিপির তরফে তাঁকেই দলের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। শনিবারই তিনি মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার দলনেত্রী নির্বাচনের ঘোষণা হলেও শনিবার সকালে এনসিপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে নেতা নির্বাচিত করা হবে।বর্তমানে সুনেত্রা পওয়ার রাজ্যসভার সাংসদ। সংবিধান অনুযায়ী, উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে হবে। বিধান পরিষদে সাধারণ ভোটাররা ভোট না দিলেও সেখানে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে সদস্য নির্বাচন করেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, মহারাষ্ট্র-সহ দেশের ছয়টি রাজ্যে বর্তমানে বিধান পরিষদ রয়েছে।শনিবারের বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ে পৌঁছেছেন এনসিপির বিধায়ক ও বিধান পরিষদের সদস্যেরা। এর পাশাপাশি শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা’-য় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, প্রফুল পটেল এবং সুনীল তটকরে।
সূত্রের খবর, অজিত পওয়ারের হাতে থাকা অর্থ, আবগারি ও ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।বৈঠক শেষে ছগন ভুজবল জানান, শনিবারই সুনেত্রা পওয়ারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলনেত্রী নির্বাচিত করা হবে এবং অজিত পওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তিনিই উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসও শপথগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।উল্লেখ্য, ভোটের রাজনীতিতে সুনেত্রা পওয়ারের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে নতুন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বারামতী কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শরদ পওয়ার-কন্যা সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত হন। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির অজিত-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী আলাদা পরিচয় বজায় রেখেই সুনেত্রাকে নেতৃত্বে তুলে আনায় দলের অন্দরমহলে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক।

