রাতদিন ওয়েবডেস্ক: রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমে আসায় ভারতকে এক বড়সড় প্রস্তাব দিল আমেরিকা। ওয়াশিংটন চায়, ভারত এখন থেকে রাশিয়ার বদলে ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কেনা শুরু করুক। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। কেন এই নতুন সমীকরণ? ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমি দেশগুলোর নানা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ তৈরি করছেন। এমনকি রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল একটি বড় বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। আমেরিকার শর্ত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস্টোফার রাইট জানিয়েছেন, আমেরিকা ভেনেজুয়েলার তেলের ভান্ডার পুনর্গঠন করছে। তবে এই তেল বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটিই থাকবে মার্কিন প্রশাসনের কড়া নিয়ন্ত্রণে। একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই তেল বাজারে ছাড়া হবে যার বিপণন করবে খোদ মার্কিন সরকার। তেল বিক্রির অর্থও একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই প্রস্তাবে রাজি হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার চাপানো অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর পথ প্রশস্ত হতে পারে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ।ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পাওয়া গেলে মধ্যপ্রাচ্য বা রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।ভারতের রিলায়েন্স বা নায়ারা এনার্জির মতো শোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধনে বিশেষভাবে সক্ষম। তথ্য বলছে গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে রুশ তেলের আমদানি গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। যেখানে ভারত আগে প্রতিদিন প্রায় ১২ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কিনত তা কমিয়ে আগামী কয়েক মাসে ৮ লক্ষ বা ৫ লক্ষ ব্যারেলে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি এই বিশেষ ছাড় দেয়, তবে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে ভারত সরকার এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করেনি।

