রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক আর সেই সময় বাড়িতে একা! এই পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ের, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে যদি কিছু সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তা হলে বিপদের মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব। হার্ট অ্যাটাক পুরোপুরি ঠেকানো নাও যেতে পারে, তবে সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, যাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে বা যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে ভুগছেন, তাঁদের আগে থেকেই কিছু বিষয় জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সংকটের মুহূর্তে আতঙ্কে অনেকেই কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ সেই সময়ের কয়েক মিনিটই হয়ে উঠতে পারে জীবন-মৃত্যুর ফারাক।চিকিৎসকদের প্রথম পরামর্শ যত দ্রুত সম্ভব সাহায্যের জন্য কাউকে খবর দেওয়া। পরিবারের সদস্য, কাছের বন্ধু বা প্রতিবেশী যে কাউকে ফোন করে নিজের অবস্থার কথা জানাতে হবে। প্রতিবেশীদের ডাকলে দ্রুত সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।সাহায্য চাওয়ার পর বাড়ির দরজা খুলে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ কেউ পৌঁছনোর আগেই যদি রোগী অচৈতন্য হয়ে পড়েন, তা হলে বন্ধ দরজা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।চিকিৎসকেরা আরও জানান, যদি অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকে এবং আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে একটি অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি কোনও চিকিৎসার বিকল্প নয় শুধু জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িক সহায়তা দিতে পারে।হেল্প আসতে দেরি হলে কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলতে থাকাও জরুরি। এতে মানসিকভাবে কিছুটা স্থির থাকা যায় এবং অপর প্রান্তের মানুষ প্রয়োজনে জরুরি পরিষেবার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে পারেন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দাঁড়িয়ে থাকা নয়। বসে বা শুয়ে থাকা উচিত, যাতে হঠাৎ জ্ঞান হারালে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত না লাগে।চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের সময় এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিই অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। সচেতন থাকাই এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

