রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলে কাজের গতি যেমন থমকে যায়, তেমনই নষ্ট হয় মনোযোগ ও মেজাজ। অনেকেরই মনে হয়, এই ব্যথা বুঝি বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাথাব্যথার নেপথ্যে থাকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও কিছু অভ্যাসগত ভুল।চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের মাথাব্যথাকে বলা হয় প্রাইমারি হেডেক।
এটি সাধারণত শরীরের ভেতরে কোনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত নয়। বরং মাথার স্নায়ু, রক্তনালি বা পেশির অতিরিক্ত উত্তেজনা থেকেই এই ব্যথার সৃষ্টি হয়। কখনো মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা, আবার কখনো ঘাড় ও কাঁধের পেশির সমস্যাও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও এই সমস্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভুল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অনিয়ম মাথাব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ঘুমের সময়সূচি বারবার বদলে যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা পানিশূন্যতাসবই মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
পাশাপাশি অ্যালকোহল, বিশেষ করে লাল ওয়াইন, এবং নাইট্রেটযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারও অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা উসকে দেয়।ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, সময়মতো খাবার না খাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। তাই মাথাব্যথা কমাতে প্রথমেই জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।নিয়মিত ঘুম, সুষম ও সময়মতো খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে ধ্যান বা যোগব্যায়াম মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে। ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।সব মিলিয়ে বলা যায়, মাথাব্যথা এড়াতে সুস্থ জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর পথ। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই অনেক ক্ষেত্রে এই সাধারণ অথচ বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

