রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মিনিয়াপোলিসের রাজপথে এখন উত্তাল জনস্রোত, যেখানে কয়েক হাজার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে বিচার আর নিরাপত্তার দাবি। গত বুধবার অভিবাসন দফতর তথা আইসিই ICE র আধিকারিক জোনাথন রসের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সি রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত।
বিক্ষোভের মিছিলে আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে এক গভীর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছাপ। বিশেষ করে মিছিলে আসা মেগান মুরের মতো সাধারণ অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁদের মতে, অভিবাসন দফতরের বর্তমান কার্যকলাপ জনমনে এমন এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে কেউই আর নিরাপদ বোধ করছেন না। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ শনিবার আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যেখানে আন্দোলনকারীরা অভিযুক্ত আধিকারিকের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তবে এই জনরোষের আগুনে ঘি ঢেলেছে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের মন্তব্য।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সরাসরি অভিযুক্ত আধিকারিক জোনাথনের পাশে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন যে, ওই যুবতী ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থেই আধিকারিক গুলি চালিয়েছিলেন। প্রশাসনের এই সাফাই বিক্ষোভকারীদের আরও বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও মেয়র জ্যাকব ফ্রে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, তবে শুক্রবার রাতে একটি হোটেলের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ এবং পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা না থাকলেও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে 'আত্মরক্ষা'র তত্ত্ব আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে মিনিয়াপোলিস বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বিচার পাওয়ার আশায় রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

