রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বারো বছরের রোহনের ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ফ্যাটি লিভার কেবল বড়দের নয়, ছোটদেরও অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাইরের খাবার বা অনিয়মিত জীবনযাপনকে দায়ী করা হলেও, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার নেপথ্যে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
সাধারণত লিভার তার ওজনের ৫ থেকে ৬ শতাংশ চর্বি সহ্য করতে পারলেও এর বেশি হলেই তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এই রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর উপসর্গগুলো অত্যন্ত সাধারণ, যা আমরা প্রায়শই গ্যাস-অম্বল বা বদহজম ভেবে এড়িয়ে যাই। যেমন, অল্প খেলেই পেট ফুলে যাওয়া বা পেটের উপরিভাগের ডান দিকে হালকা অস্বস্তি অনুভব করা ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। এছাড়া ঘরোয়া সাধারণ খাবার খেয়েও যদি নিয়মিত পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হয়, তবে তা লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাসের লক্ষণ।
এর পাশাপাশি যদি শরীরে প্রচণ্ড ক্লান্তি ভাব থাকে এবং কোনো কারণ ছাড়াই গা-বমি ভাব দেখা দেয়, তবে বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজগুলো থমকে যাওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী হতে পারে। রোহনের মা যেমন শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা ভেবেছিলেন, এমন ভুল অনেক পরিবারেই ঘটে। তাই সামান্য অস্বস্তিকেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং লিভারের পরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, নতুবা এটি লিভার সিরোসিসের মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

