রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ঘর সাজানোর সময় এখন আর শুধু রঙ, আসবাব বা নান্দনিকতার কথাই ভাবা যথেষ্ট নয়। আধুনিক গৃহসজ্জার নতুন ধারণা হল ‘পেট ফ্রেন্ডলি’ নকশা, যেখানে মানুষের পাশাপাশি বাড়ির চারপেয়ে সদস্যদের স্বাচ্ছন্দ্যও সমান গুরুত্ব পায়।
চার দেওয়ালের সংসার কেবল মানুষের নয় সেখানে পোষ্যদেরও রয়েছে নিজস্ব অধিকার ও প্রয়োজন।অনেকের ধারণা, পোষ্য থাকলে অন্দরসজ্জায় আপস করতেই হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক চিন্তাভাবনা থাকলে বিলাসিতা এবং পোষ্যবান্ধব নকশা একসঙ্গেই সম্ভব। গৃহসজ্জার প্রথম ধাপই হল উপযুক্ত মেঝে নির্বাচন। পোষ্যের নখের আঁচড় বা দৌড়ঝাঁপে পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতে মার্বেল বা অতিরিক্ত চকচকে টাইলসের বদলে ম্যাট ফিনিশ টাইলস বা ল্যামিনেটেড কাঠের মেঝে ব্যবহার করা ভালো। এগুলি স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী হওয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার রাখাও সহজ।আসবাব বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি।
হালকা রঙের সোফা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও পোষ্যের লোম বা দাগ দ্রুত চোখে পড়ে। তাই মাইক্রোফাইবার, লেদারেট বা পারফরম্যান্স ফেব্রিক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন ইন্টিরিয়র ডিজাইনাররা। এই ধরনের কাপড় সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে।পোষ্যদের জন্য ঘরের ভেতর আলাদা পরিসর তৈরি করাও জরুরি। সিঁড়ির নিচে বা জানলার ধারে ছোট্ট বিছানা বা কুশন তাদের আরাম বাড়ায়। বিড়ালের জন্য দেওয়ালে ক্যাট শেলফ বা ক্লাইম্বিং স্পেস রাখা যেতে পারে। খাবার, খেলনা বা পরিচর্যার সামগ্রীর জন্য নির্দিষ্ট ক্যাবিনেট থাকলে ঘরও থাকে গুছানো।অন্দরসজ্জায় গাছ ব্যবহারের সময় বিষাক্ত প্রজাতি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। এরিকা পাম, স্পাইডার প্ল্যান্ট বা বাঁশ গাছ পোষ্যের জন্য নিরাপদ। পাশাপাশি ব্যালকনি ও ছাদে সুরক্ষার জন্য গ্রিল বা শক্ত জাল অপরিহার্য।সব মিলিয়ে, ঘর কেবল সাজানোর জায়গা নয় এটি এক নিরাপদ আশ্রয়। যেখানে মানুষ ও পোষ্য একসঙ্গে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে, সেটাই পেট ফ্রেন্ডলি গৃহসজ্জার মূল লক্ষ্য।

