রাতদিন ওয়েবডেস্ক : তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে উত্তর ভারতের বিশাল অংশ। পাঞ্জাব থেকে রাজস্থান,সর্বত্রই প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে জনজীবন কার্যত স্থবির। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে আসায় সড়কপথ হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক।
পাঞ্জাবের হোসিয়ারপুর-দাসুয়া সড়কে একাধিক গাড়ির ভয়াবহ সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। একইভাবে রাজস্থানের জয়পুর-দিল্লি হাইওয়েতেও বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আরও ২৫ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।পাঞ্জাবের আবহাওয়া এখন সবথেকে ভয়াবহ পর্যায়ে। হোসিয়ারপুরে তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে, আর অমৃতসরে তা ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভাটিন্ডা, ফরিদকোট এবং পাটিয়ালাতেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে ক্রমাগত তুষারপাতের ফলে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে চলে যাওয়ায় পাহাড়ি জনপদে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
হরিয়ানা এবং রাজস্থানেও কনকনে শীতের সাথে কুয়াশার দাপট বজায় রয়েছে।রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতিও উদ্বেগের। গতকাল তাপমাত্রা ৪.২ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পর আবহাওয়া দপ্তর শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। তবে ঠান্ডার পাশাপাশি দিল্লির বাসিন্দাদের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণ। বর্তমানে বাতাসের মান ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করলেও কুয়াশা আর ধোঁয়ার সংমিশ্রণে রাজধানীর আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হলেও শীতের দাপট কমার কোনো লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না।
