রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নিশ্চিত ছিল, ৯ জানুয়ারি মুক্তি পাবে থলপতি বিজয়ের শেষ ছবি ‘জন নায়কন’। দীর্ঘ কেরিয়ারের ইতি টানতে চলা এই ছবিকে ঘিরে অনুরাগীদের উন্মাদনাও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আইনি জটিলতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায় ছবির মুক্তি।
সেই কারণেই কি এবার দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন নির্মাতারা এ প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে ইন্ডাস্ট্রিতে।ছবিমুক্তি নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয় ভারতীয় সেন্সর বোর্ড শংসাপত্র আটকে দেওয়ার পর। ‘জন নায়কন’-এর জন্য ইউএ-১৬ সার্টিফিকেট চেয়ে নির্মাতারা মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার আদালত সিবিএফসিকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি হয়।
ফলে ফের অনিশ্চয়তায় পড়ে ছবির ভবিষ্যৎ। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২১ জানুয়ারি।এই পরিস্থিতিতে নির্মাতারা বুঝে যান, হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় থাকলে ছবিমুক্তি আরও দীর্ঘসূত্রতায় যেতে পারে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই আশঙ্কা থেকেই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদিও ‘জন নায়কন’ টিমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।এদিকে বিজয়ের শেষ ছবির এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না প্রযোজক বেঙ্কট কে নারায়ণ। একটি ভিডিয়োবার্তায় তিনি জানান, ছবিটির সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ ও বছরের পর বছর পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে।
তাঁর কথায়, “দর্শকদের দীর্ঘদিন আনন্দ দেওয়ার পর থলপতি বিজয়ের শেষ ছবিতে এমন ভাগ্যবিপর্যয় সত্যিই বেদনাদায়ক। আমরা এই ছবির মাধ্যমেই ওঁকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলাম।”শুধু প্রযোজকই নন, এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমল হাসনও। তিনি বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কমলের মতে, শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ মূল্যায়ন এবং প্রতিটি প্রস্তাবিত ‘কাট’-এর যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকা উচিত। উল্লেখযোগ্য, ‘জন নায়কন’-এ প্রায় ২১টি দৃশ্য কাটার প্রস্তাব দিয়েছে সিবিএফসি, যা নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে এই বিতর্ক।
