রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কাশ্মীরে ফের উদ্বেগ বাড়াল ড্রোন ও রহস্যময় স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত। রবিবার সন্ধ্যা থেকে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ড্রোন তৎপরতার আগের রাতেই আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত মেলায় গোটা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল।
রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ১৫ মিনিটের মধ্যে, মাত্র ৫০ মিনিটে চারটি ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন সেক্টরে। প্রথম ড্রোনটি দেখা যায় পুঞ্চ জেলার মানকোট সেক্টরে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সেটি পাকিস্তানের দিক থেকে উড়ে এসেছিল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ রাজৌরির খাব্বার গ্রামে দ্বিতীয় ড্রোন নজরে আসে। একই সময়ে কালাকোট থেকে উধমপুরের ভারাখের দিকে একটি রহস্যময় আলো দেখা যায়, যা কিছুক্ষণ জ্বলে নিভে গিয়ে মিলিয়ে যায়। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটেই রাজৌরির নৌসেরা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আরও একটি ড্রোন দেখতে পান জওয়ানেরা। সঙ্গে সঙ্গে মেশিন গান দিয়ে গুলি চালানো হয়। শেষ ড্রোনটি দেখা যায় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ সাম্বার জেলার রামগড় সেক্টরের চক বাব্রাল গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মিনিট ধরে ড্রোনটি গ্রামের উপর ঘোরাঘুরি করছিল।
ড্রোন তৎপরতার ঠিক আগের রাতে, শনিবার গভীর রাতে কানাচক থানা এলাকার কাছে স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে, রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই সঙ্কেত ধরা পড়ে। জম্মু শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।এই দু’টি ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বা বড়সড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছে কি না, তা জানতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি। বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনা, বিএসএফ এবং এসওজি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর অভিযান চালাচ্ছে। গোটা উপত্যকা জুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
