রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আইসিসি বিশ্বকাপে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। দীর্ঘ ২০ বছর আইসিসি টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে না পারার যে আক্ষেপ ভারতের ছিল ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে তা ইতিহাস হয়ে গেল। কিউইদের দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা ৪ উইকেট বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় রোহিত ব্রিগেড।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল নীল জার্সিধারীরা। শামির বিধ্বংসী বোলিং ও নিউজিল্যান্ডের লড়াই রবিবার টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। শুরুতে নিউজিল্যান্ড চাপে পড়লেও ড্যারিল মিচেল এবং রাচিন রবীন্দ্রর।পার্টনারশিপ ভারতকে কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল। মিচেল খেলেন ১৩০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। তবে ভারতের তুরুপের তাস হয়ে দেখা দেন মহম্মদ শামি। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই কিউই ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ডকে ২৭৩ রানে আটকে দেওয়ার নেপথ্যে ছিল শামির ৫৪ রানে ৫ উইকেট শিকার।
বিরাটের মাস্টারক্লাস ও জাদেজার ফিনিশিং রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা আক্রমণাত্মক মেজাজে করেন রোহিত শর্মা ও শুভমন গিল। তবে মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ভারত যখন কিছুটা চাপে তখন ফের একবার দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান কিং কোহলি। বিরাটের ধীরস্থির ৯৫ রানের ইনিংসটিই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয়। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আউট হলেও তাঁর লড়াকু মানসিকতা গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। শেষ দিকে রবীন্দ্র জাদেজা ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে ম্যাচটি শেষ করে মাঠ ছাড়েন। বিশ বছর পর শাপমুক্তি ২০০৩ সালের পর থেকে আইসিসি-র কোনো বড় মঞ্চে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ভারত। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সেই ক্ষত আজও সমর্থকদের মনে টাটকা। তবে ধর্মশালার এই জয় সেই সব পুরনো হিসাব মুছে দিল। বোলারদের শৃঙ্খলা এবং বিরাটের অসাধারণ ব্যাটিং ভারততে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের রাস্তা কার্যত পরিষ্কার করে ফেলল ভারত।
