রাতদিন ওয়েবডেস্ক : তীব্র আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান কি তবে খুব শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াতে চলেছে? সম্প্রতি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এক বিস্ফোরক দাবি করে বসেছেন। তাঁর মতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আর আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (IMF)-এর ঋণের প্রয়োজন পড়বে না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে এবং নিকট ভবিষ্যতে দেশটিকে আর বিদেশি সংস্থার মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না। মন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে ইতিমধেই আন্তর্জাতিক মহলে হইচই শুরু হয়েছে, কারণ বর্তমানে পাকিস্তানের অর্থনীতির যে বেহাল দশা, তাতে এমন ঘোষণা অনেকের কাছেই 'দিবাস্বপ্ন' বলে মনে হচ্ছে।
বাস্তব চিত্র অবশ্য মন্ত্রীর দাবির ঠিক উল্টো কথা বলছে। শাহবাজ শরিফ সরকারের নিজস্ব রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটিতে ঋণের বোঝা গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ইসলামাবাদের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৬৮৩ কোটি ডলার। পাকিস্তানি ব্যাংক এবং অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া বিপুল ঋণের ভারে কার্যত নুইয়ে পড়েছে সে দেশের অর্থনীতি। করোনা অতিমারির পরবর্তী সময়ে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি মুদ্রার রেকর্ড দরপতন, আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটে বিধ্বস্ত পাকিস্তান গত বছরই IMF-এর থেকে ৭০০ কোটি ডলারের ‘বেলআউট’ প্যাকেজ নিয়ে কোনোমতে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এই পাহাড়প্রমাণ ঋণের বোঝা নামাতে পাকিস্তান এখন এক ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে চাইছে। বিদেশি মুদ্রা অর্জনে তারা এখন সামরিক চুক্তির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কাছে উন্নত যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে কোষাগার ভরার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। এমনকি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোকে সরাসরি ঋণ পরিশোধের চুক্তিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছেন পাক প্রতিরক্ষা কর্তারা। তবে যুদ্ধবিমান বিক্রি করে আসা অর্থে কি সত্যিই কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ঋণের পাহাড় টপকানো সম্ভব? সেই সংশয় থেকেই যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
