Type Here to Get Search Results !

Weather : দক্ষিণবঙ্গে দহনজ্বালা আর উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়ার মেজাজ বদল

রাতদিন  ওয়েবডেস্ক : বসন্তের বিদায়ঘণ্টা বাজতে না বাজতেই রাজ্যের আবহাওয়ায় ব্যাপক রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পারদ চড়চড় করে বাড়ছে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির হাতছানি এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ বাড়ছে, যার ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অস্বস্তিকর গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই চব্বিশ পরগনার আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও বিকেলের দিকে ভ্যাপসা গরম জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁতে পারে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে দুপুরের দিকে লু-এর প্রকোপ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সরাসরি রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর শোনাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। হিমালয় সংলগ্ন পাঁচটি জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় মেঘলা আকাশ এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের না ঘটলেও মালদহ এবং দুই দিনাজপুরে গরমের দাপট বজায় থাকবে। দক্ষিণা বাতাসে ভর করে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় রাতেও মিলছে না রেহাই, যার ফলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কয়েক ডিগ্রি উপরে থাকছে। কৃষকদের জন্য এই আবহাওয়া কিছুটা উদ্বেগের, কারণ হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতার অভাব রবি শস্যের ক্ষতি করতে পারে। শহর কলকাতায় ভোরের দিকে মনোরম পরিবেশ থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথেই রোদের তেজ সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে ইতিমধ্যেই ডিহাইড্রেশন এবং পেটের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ভিড় বাড়ছে, যা গরমের তীব্রতাকেই ইঙ্গিত করে। আপাতত বৃষ্টির কোনো জোরালো সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে না থাকায় চাতক পাখির মতো মেঘের অপেক্ষায় দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। বঙ্গোপসাগরে যদি কোনো নিম্নচাপ ঘনীভূত না হয়, তবে এই প্যাচপ্যাচে গরম থেকে এখনই নিস্তার মিলবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। সব মিলিয়ে বাংলার দুই প্রান্তে আবহাওয়ার দুই রূপ একদিকে শুষ্ক গরমের দাপট আর অন্যদিকে বৃষ্টির আমেজ এক অস্থির জলবায়ুর ছবি ফুটিয়ে তুলছে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad