রাতদিন ওয়েবডেস্ক :পাহাড়ের নেশা যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কর্ণাটকের পাহাড়ে ট্রেকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর রহস্যময় মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। টানা চারদিন তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে পাহাড়ের গভীর খাত থেকে উদ্ধার করা হলো তার নিথর দেহ।জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের একটি দলের সঙ্গে কর্ণাটকের একটি জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটে ঘুরতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আরোহণের সময় সে দলের বাকিদের থেকে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল।
মাঝপথে হঠাৎ কুয়াশা ঘন হয়ে আসায় এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের বাকিরা যখন পাহাড়ের নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছান, তখন তারা লক্ষ্য করেন যে ওই কিশোরী নিখোঁজ।কিশোরীকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে ওঠে কর্ণাটক পুলিশ এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)। ড্রোনের সাহায্যে এবং প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন জঙ্গলের কারণে উদ্ধারকাজে বারবার বিঘ্ন ঘটছিল। চার দিন ধরে চলে উৎকণ্ঠা। পরিবারের সদস্যরা বুক বেঁধেছিলেন কোনো মিরাকেলের আশায়।অবশেষে চতুর্থ দিনে পাহাড়ের একটি গভীর গিরিখাতের নিচে কিশোরীর দেহটি শনাক্ত করেন উদ্ধারকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভারসাম্য হারিয়ে কোনোভাবে সে পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিল। খাতের গভীরতা ও পাথুরে জমিতে আছাড় খাওয়ার ফলে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পাওয়াই মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।কিশোরীর মৃত্যুর খবরে তার স্কুল এবং বন্ধু মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেধাবী ও প্রাণচঞ্চল মেয়েটির এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পাহাড় জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে যে এভাবেই কফিনবন্দি হয়ে ফিরবে, তা ভেবেই বাকরুদ্ধ পরিজনরা।
