রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ইরানকে ঘিরে। সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি চিন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তার “গুরুতর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিন নাকি খুব শিগগিরই ইরানের কাছে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “চিন যদি এটা করে, তাহলে তাদের বড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে।” যদিও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সতর্কবার্তা এমন এক সময় সামনে এল যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পর একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চিন যে ধরনের অস্ত্র পাঠানোর কথা ভাবছে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম এবং বিশেষ করে নিম্নউচ্চতায় উড়তে থাকা যুদ্ধবিমানগুলির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। যদিও চিন এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। বেইজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তারা কোনও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহ করে না এবং এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, ইরানের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অনেকেই কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন। এর আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যে কোনও দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে সেই দেশের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ফলে, এই সতর্কবার্তার পেছনে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দুই দিকই কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চরমে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, লেবাননে উত্তেজনা এবং তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই অবস্থায় চিন যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইরানকে সাহায্য করে, তাহলে তা বড় শক্তিগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।

