রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল, যখন রাকেশ সিংহ-কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। এই কেন্দ্রে আগে থেকেই প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, যিনি ‘ববি’ নামেই বেশি পরিচিত এবং তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। ফলে এই কেন্দ্রে লড়াই এখন বেশ জমজমাট হতে চলেছে।কলকাতা বন্দরের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির তরফে নাম ঘোষণার অপেক্ষা ছিল অনেক দিন ধরেই। অবশেষে বুধবার সেই জল্পনার অবসান ঘটে, যখন রাকেশ সিংহের নাম ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান কলকাতা হাই কোর্ট থেকে। এই জামিন পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, তাঁকেই কি প্রার্থী করা হবে? শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হল।ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে রাকেশ সিংহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ ছিল, কংগ্রেস-এর বিধান ভবনে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। জানা যায়, রাহুল গান্ধী-র একটি মিছিলকে ঘিরে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’-এর প্রতিবাদেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনার পর থেকেই রাকেশ সিংহ পলাতক ছিলেন। পরে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে, যাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পুত্র শিবম সিংহও।
রাকেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয় এন্টালি থানায়। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান।জামিন পাওয়ার দিনই রাকেশ সিংহ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় হন। একটি গাড়িতে বসা অবস্থায় নিজের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সত্যের জয় হয়েছে।” শুধু তাই নয়, তিনি সরাসরি ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেন। পরবর্তী পোস্টে তিনি দাবি করেন, “১৬৩ দিনের সংগ্রামের পর আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৬টি মিথ্যা মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রার্থী নির্বাচন বিজেপির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একদিকে, রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে থাকা বিতর্ক তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে একটি সহানুভূতির আবহও তৈরি হয়েছে। এর ফলে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে, কলকাতা বন্দরের এই লড়াই এখন কেবল দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক হিসেবে, যেখানে আইনি লড়াই, জনসমর্থন এবং রাজনৈতিক কৌশল সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

