রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর কারাবাসের পর শেষ পর্যন্ত সব মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির পথ সুগম হয়েছে, বলে বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে। দীর্ঘতম সময় ধরে বিচারাধীন থাকার পর বুধবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা শেষ দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করে আদালত, ফলে আর কোনো আইনি বাধা থেকে যাচ্ছে না বলে আদালত মন্তব্য করেছে।
এই জামিন নতুন করে বড় করে আলোচনায় এসেছে কারণ ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সে বিভিন্ন মামলায় হাজতবাস করে আসছিল এবং এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডি‑র মামলায় ইতোমধ্যেই তিনি জামিন পেয়ে গিয়েছেন, কিন্তু রাজ্য পুলিশের দায়ের করা আরও কয়েকটি মামলায় আটকে থাকার কারণে তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল। আদালত অবশ্যই জামিনে শর্ত আরোপ করেছে তিনি মুক্ত থাকুক বা হাজতবাস থেকে বেরোক, তাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া ঢাকা‑কলকাতা সহ অন্যত্র যাওয়া নিষিদ্ধ, এরকম শর্তও দেওয়া হয়েছে। সারদা কেলেঙ্কারির ঘটনাটি বাংলা রাজনীতি ও রাজ্য অর্থনীতিতে এক সময় তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল, যেখানে লক্ষ লক্ষ সাধারণ আমানতকারী তাদের সঞ্চয় সংস্থার কাছ থেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও আদালতের দরজায় মানুষের ভিড় দীর্ঘ সময় ধরে ছিল সেই প্রেক্ষাপটে সুদীপ্ত সেনের মুক্তি যদিও আদালতের শর্তসাপেক্ষ আমানতকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে এবং রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, কেউ বলছে এটি আইনি নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত জটিলতা কাটিয়ে ওঠা, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছে যে এই ধরনের বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির মামলা দীর্ঘ বছর ধরে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রধান অভিযুক্তের জামিন কেন এতদিতে অনুমোদিত হলো। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া কার্যত থেমে গেছে সিবিআই‑র পক্ষ থেকে মাত্র কিছু মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং প্রমাণিত মামলা‑শুনানি শুরু হতে শুক্রবার পর্যন্ত অনেক দেরি হয়েছে। এই ধীরগতি‑সম্পন্ন বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আদালতই রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থা ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে এবং জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী বিচার দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব শুধু অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা নয়, বরং ন্যায্য ও সময়োপযোগী ট্রায়াল পরিচালনারও রয়েছে। এমনকি একটি মামলার নথি একসময় হারিয়ে যেতে দেখা যায় এবং পরে সেটা খুঁজে পাওয়া গেলে আদালত তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে। একই সঙ্গে আদালত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে বলেছে যাতে ক্ষতিগ্রস্থ থাকা সাধারণ মানুষদের ক্ষতিটি কিছুটা হলেও কমানো যায়। সব মিলিয়ে সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘ কারাবাসের পর জামিন পাওয়া এবং মুক্তির সম্ভাবনা বের হতে পারে এমন পরিস্থিতি এখন রাজ্য ও দেশের আইনি মহলে বড় খবর হিসেবে উঠে এসেছে।

