রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তেল আমদানির উপর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই আমেরিকা, রাশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারতের তেল শোধনাগারগুলি। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে তেলের জোগানে সমস্যা দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
ভারতে যত তেল প্রয়োজন হয়, তার প্রায় ৮৮ শতাংশই আমদানি করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে স্ট্রাট অফ হড়মুজ দিয়ে। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ওই প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে।২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ হামলা চালায় ইসরায়েল এবং ইউনাইটেড স্টেটস। তার পরেই তেহরান হুঁশিয়ারি দেয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ গেলে তা ধ্বংস করা হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওই পথ দিয়ে ভারতে তেল আসা আপাতত বন্ধ।পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে আমদানি বন্ধ হলেও অন্য পথ দিয়ে তেল আসা এখনও চালু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েনি এমন দেশগুলি থেকে আরও বেশি করে তেল আমদানি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে ভারত যত তেল আমদানি করেছিল, তার প্রায় ৬০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়ার বাইরের দেশগুলি থেকে এসেছে— যেমন রাশিয়া , ইউনাইটেড স্টেটস , পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলি, অস্ট্রেলিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ।সংঘাত শুরু হওয়ার পরে আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই ওই দেশগুলি থেকে করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যেই ইউনাইটেড স্টেটস জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে আগামী এক মাস ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে। তবে শর্ত রয়েছে— ৫ মার্চের আগে যে তেল জাহাজে তোলা হয়েছে, শুধু সেটিই কেনা যাবে। এই ছাড় থাকবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত।বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ ভারতের কাছাকাছি আরবিয়ান সাগর এবং বায় অফ বেঙ্গল এলাকায় অবস্থান করছে। সেগুলিতে মোট প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল মজুত রয়েছে সিঙ্গাপুর-এর কাছাকাছি এলাকায়।এদিকে গত বছর অক্টোবর মাসে আমেরিকা রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা রোশনেফট এবং লুকোইল -এর উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরে ভারতের কয়েকটি সংস্থা রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবার সেই আমদানি বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর। এই তালিকায় রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিস , হিন্দুস্তান পেট্রোলেম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং এইচ. পি.সি. এল মিথ্যালা এনার্জি লিমিটেড ।তেল মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেনি ভারত, যদিও কিছুটা কমানো হয়েছিল। তবে আপাতত দেশের কাছে যথেষ্ট তেল মজুত রয়েছে। দেশে প্রায় ১৪ কোটি ৪০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া মোট মিলিয়ে প্রায় ৬৪.৫ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের। সেই হিসেবে প্রায় ৭৪ দিনের জ্বালানি ভান্ডার দেশে থাকতে পারে।তবে সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ মার্কিন ডলার। সংঘাতের পরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯২ মার্কিন ডলার। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় বাজারেও। ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
