রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যুবশ্রী বা যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে, যেখানে কয়েক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী নাম নথিভুক্ত করেছেন। তবে আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক আবেদনকারীই ফর্মে বিভিন্ন তথ্যগত ভুল করে ফেলেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে। আবেদনকারীদের প্রধান প্রশ্ন হলো, অনলাইনে একবার ফর্ম জমা দেওয়ার পর তাতে কোনো সংশোধন বা এডিট করা সম্ভব কি না।
বর্তমান নিয়ম ও পোর্টালে দেওয়া সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আবেদনপত্রের শেষ ধাপে ‘ফাইনাল সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করার পর আর কোনোভাবেই তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ, আবেদনকারী নিজে থেকে অনলাইনে ভুল সংশোধন করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই দ্বিতীয়বার নতুন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করার কথা ভাবছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিয়মবহির্ভূত। মনে রাখতে হবে, আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর পরিবর্তিত হলেও আধার কার্ডের নম্বর একই থাকে, ফলে সিস্টেম সহজেই এই দ্বৈত আবেদন বা ডুপ্লিকেট এন্ট্রি শনাক্ত করে ফেলবে এবং সেক্ষেত্রে আবেদনটি স্থায়ীভাবে বাতিল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া আরেকটি বড় ভুল যা অনেকেই করেছেন তা হলো নথিপত্র আপলোডের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় না রাখা। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধুমাত্র অরিজিনাল ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি আপলোড করলেই হবে না, প্রতিটি নথির ফটোকপি বা জেরক্সের ওপর আবেদনকারীর নিজস্ব স্বাক্ষর বা সেলফ-অ্যাটেস্টেড থাকা বাধ্যতামূলক।
যারা এই নিয়ম মানেননি, তাঁদের আবেদনপত্রও ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য হতে পারে। মূলত বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করতে রাজ্য সরকার মাসে ১,৫০০ টাকা হারে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, যা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছেন। তবে ভুল তথ্য বা ভুল পদ্ধতিতে আবেদন জমা পড়লে এই আর্থিক সুবিধা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে সংশোধনের সুযোগ নেই, তবুও নথিপত্র বা তথ্যে গুরুতর ভুল থাকলে আবেদনকারীরা নিকটবর্তী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন, কারণ অনেক সময় প্রশাসনিক স্তরে যাচাইয়ের সময় ছোটখাটো ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে নতুন করে আবেদন করার ঝুঁকি না নিয়ে ধৈর্য ধরা এবং সরকারি পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে নজর রাখাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন গৃহীত হলে তবেই দীর্ঘমেয়াদী এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে, অন্যথায় সামান্য ভুলের কারণে হাতছাড়া হতে পারে মাসিক এই বেকার ভাতা।

