রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সতর্ক হয়েছে। যুদ্ধ যদি আরও জটিল ও বিপজ্জনক মোড় নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এই সম্ভাব্য আর্থিক অস্থিরতার মোকাবিলায় ভারতের অর্থমন্ত্রক আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সম্প্রতি ভারতীয় শিল্প সংঘ(সিআইআই) কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানি এবং উৎপাদন খাত ইতিমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় শিল্প ও বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তারা মনে করছেসিআইআই-এর অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হল একটি শক্তিশালী ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা। এই ব্যবস্থায় সরকার যদি ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে দাঁড়ায়, তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি সহজেই ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারবে। ফলে তাদের নগদ অর্থের সংকট অনেকটাই কমবে এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
পাশাপাশি তিন মাসের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যা শিল্পক্ষেত্রকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে।অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্ভাব্য আর্থিক প্যাকেজের বিষয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করে তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার কমানো, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং শর্ত সহজ করা।
এতে করে শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।অর্থমন্ত্রক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করছে কোন কোন সেক্টরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এই তালিকা তৈরির সময় কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অর্থাৎ যে খাতগুলি বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলিকে আগে সাহায্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সমস্ত পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে কেন্দ্রীয় সরকার আশঙ্কা করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ নাও হতে পারে।
বরং তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে জ্বালানি খাতে, কারণ পশ্চিম এশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদক অঞ্চল। তেলের দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে পরিবহন, উৎপাদন এবং সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির উপর।সব মিলিয়ে বলা যায়, সম্ভাব্য বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের আগে থেকেই কেন্দ্র সরকার একটি প্রতিরোধমূলক কৌশল গ্রহণ করতে চাইছে। সময়মতো সঠিক আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা গেলে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব শিল্পক্ষেত্রই এই সংকট সামাল দিতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

