রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবায় গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফের সরব হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন, যার জেরে শহরের দুটি পৃথক নামী হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে তারাতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে, যেখানে যথাযথ সময়ে অস্ত্রোপচার না হওয়া এবং চিকিৎসার চূড়ান্ত গাফিলতির কারণে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ৫৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি পেটের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও দীর্ঘ চারদিন তাঁকে কোনো বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক দেখেননি, উল্টে মেডিসিন বিভাগের অধীনে রেখে দায়সারা চিকিৎসা চালানো হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। একই হাসপাতালের বিরুদ্ধে অন্য এক ঘটনায় এক বৃদ্ধার চিকিৎসাতেও ত্রুটি পাওয়া গেছে, যেখানে অভিযোগ ছিল যে রোগীকে দেখছিলেন একজন সাধারণ এমবিবিএস চিকিৎসক এবং তাঁর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে। এই দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কমিশন তারাতলার ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যথাক্রমে ২৫ লক্ষ এবং ১০ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ মোট ৩৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইএম বাইপাস সংলগ্ন অপর এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও জোড়া অভিযোগ জমা পড়েছে, যার একটিতে মাত্র দু’দিনের চিকিৎসায় ৬ লক্ষ টাকার মাত্রাতিরিক্ত বিল এবং রোগীর মৃত্যুর পর দেহ আটকে রাখার মতো অমানবিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
কমিশন ওই বিলের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি অদ্ভুত ঘটনায় ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসককে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জানা গেছে, গলায় কাঁটা বিঁধে যাওয়া এক শিশুকে চিকিৎসার সময় ভয় পেয়ে চিকিৎসকের চশমা টেনে ধরায় ওই চিকিৎসক শিশুটিকে চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন শিশুর মা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে কমিশন মায়ের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, মহানগরের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার এই বেপরোয়া মনোভাব এবং মানবিকতার অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য কমিশন কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে।

