রাতদিন ওয়েবডেস্ক : অনলাইনে গেম খেলতে বাধা দেওয়ায় অভিমানে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যার এই খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষিতে এই ঘটনাটি আমাদের সমাজের ডিজিটাল আসক্তি এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। অনলাইনে গেমে তিন বোনের মর্মান্তিক আত্মপরিচয় সম্প্রতি এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় কেঁপে উঠেছে এলাকা। অনলাইনে গেম খেলতে বাধা দিয়েছিলেন বাবা মা, আর সেই অভিমানে বহুতল আবাসনের ১০তলা থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দিল তিন বোন।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে তাদের। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন বোন দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোনে অনলাইন গেমে মত্ত থাকত। তাদের এই মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে বাবা মা দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তিত ছিলেন। ঘটনার দিন পড়াশোনা ছেড়ে গেম খেলা নিয়ে বাবা মা তাদের কড়া শাসন করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা বাবা মায়ের ওপর অভিমান করে তিন বোন নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন হয়তো রাগ করে তারা ঘুমাচ্ছে। কিন্তু গভীর রাতে আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা বিকট শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন, নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তিন কিশোরী। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতিপুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি একটি যৌথ আত্মহত্যার ঘটনা। ওই তিন বোনের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে ছিল। পুলিশ তাদের ঘর থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি মোবাইল আসক্তি ও মানসিক অবসাদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা আমাদের যা শিক্ষা দেয় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কয়েকটি জরুরি ডিজিটাল আসক্তি কিশোর কিশোরীদের মধ্যে অনলাইন গেমের প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ। যোগাযোগের অভাব সন্তানদের সাথে বাবা মায়ের মানসিক দূরত্ব কমানো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্য অভিমানে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা রুখতে শিশুদের কাউন্সিলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। যে কোনো সমস্যায় একা না থেকে প্রিয়জন বা বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন। মানসিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।

