Type Here to Get Search Results !

Beauty Secret : ত্বক, চুল ও নখের যত্নে ‘তরল সোনা’ আর্গন তেলের জাদু

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রূপচর্চায় নারকেল তেল বা কাঠবাদামের তেলের ব্যবহার বহু দিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সৌন্দর্যচর্চার জগতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক বিশেষ তেল— আর্গন অয়েল। সাধারণ বাঙালি পরিবারে এই তেলের তেমন প্রচলন না থাকলেও বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি পরিচিত ‘ম্যাজিক অয়েল’ বা ‘তরল সোনা’ নামে। কয়েক ফোঁটা আর্গন তেল ব্যবহারেই ত্বক, চুল এবং নখের জেল্লা অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আর্গন তেলের উৎস মূলত উত্তর আফ্রিকার দেশ মরকো । সেখানে জন্মানো আর্গন গাছের ফল থেকেই এই তেল তৈরি করা হয়। এক লিটার খাঁটি আর্গন তেল তৈরি করতে প্রায় ৩০ কেজি আর্গন ফলের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি এই তেল নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াও বেশ সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমসাধ্য। সেই কারণেই বাজারে এই তেলের দাম তুলনামূলক বেশি। খাঁটি আর্গন তেলের রং সাধারণত উজ্জ্বল সোনালি হয়, তাই একে অনেকেই ‘লিকুইড গোল্ড’ বা তরল সোনা বলেও অভিহিত করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্গন তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে। এই উপাদানগুলি ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ময়েশ্চারাইজ়ার বা বডি লোশনের তুলনায় ত্বককে আরও কোমল ও মসৃণ রাখতে সক্ষম এই তেল। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের পুরনো দাগছোপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে আর্গন তেল।


এছাড়াও এই তেল ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেবাম উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখায় ব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্গন তেল কিনলেই হবে না— সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করাও জরুরি।

ত্বকের যত্নে

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এক চামচ আর্গন তেলের সঙ্গে এক চামচ দই এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করা যায়। এই মিশ্রণ মুখ, হাত ও পায়ে ভাল করে মালিশ করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে তিন দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হতে পারে বলে মনে করা হয়।এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে মুখে দুই থেকে তিন ফোঁটা আর্গন তেল মালিশ করলেও ত্বক নরম ও আর্দ্র থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ব্রণ, র‍্যাশ বা ছোটখাটো দাগছোপের সমস্যাও কমতে পারে।

চুলের যত্নে

চুলের ক্ষেত্রেও আর্গন তেল বেশ কার্যকর। শ্যাম্পু করার পরে কন্ডিশনারের পরিবর্তে কয়েক ফোঁটা আর্গন তেল চুলে মালিশ করলে চুলের জেল্লা বাড়ে এবং রুক্ষভাব কমে।এছাড়া আর্গন তেল দিয়ে সহজেই হেয়ার মাস্কও তৈরি করা যায়। দুই চামচ আর্গন তেলের সঙ্গে একটি ডিমের কুসুম এবং এক চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রণ চুলে ভাল করে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললে চুলের গোড়া মজবুত হতে পারে এবং চুল পড়া কমাতেও সাহায্য করতে পারে।নখের যত্নে যাঁদের নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে বা নখের চারপাশের চামড়া শক্ত হয়ে যায়, তাঁদের জন্যও আর্গন তেল উপকারী হতে পারে। সমপরিমাণ আর্গন তেল এবং লেবুর রস মিশিয়ে সেই মিশ্রণে প্রায় ১০ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে মালিশ করলে নখের জেল্লা বাড়তে পারে।সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর এই তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক, চুল ও নখ তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে যাদের সংবেদনশীল ত্বক রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad