রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা ড্রোন হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের কৌশলও। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা সংঘাতে সেই বাস্তবতাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সামরিক সমরাস্ত্রের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সূত্রের দাবি, এই সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘ক্লড এআই’ নামের একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
বর্তমানে ইরান -কে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে। প্রায় প্রতিদিনই ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমানহামলা, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস । পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। তবে এই প্রচলিত সামরিক হামলার আড়ালে আরেকটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে সেটিই হল ‘ক্লড এআই’।‘ক্লড’ হল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা আনথ্রোপিক-এর তৈরি একটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল। মূলত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই এআই টুল ব্যবহার করা হয়। সূত্রের দাবি, সামরিক অভিযানের কৌশল নির্ধারণে এই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী।বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনও এলাকায় সেনা মোতায়েনের গতিবিধি, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি, কোথায় অস্ত্র বা সেনা জমায়েত হচ্ছে এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে এআই। সেই কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে ক্লড।সূত্রের খবর, এই এআই টুল সরাসরি হামলা চালায় না বা কোনও অস্ত্রব্যবস্থা নয়। বরং বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প জানায়। কোথায় আগে হামলা চালানো উচিত, কোন এলাকায় আঘাত করলে সামরিক দিক থেকে বেশি প্রভাব পড়বে এই ধরনের বিশ্লেষণ করে দেয় এআই। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকিও মূল্যায়ন করে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় হামলা হলে তার প্রভাব আশপাশের অঞ্চলে কতটা পড়তে পারে, সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কতটা তাও বিশ্লেষণ করে দেয় এই প্রযুক্তি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও সামরিক অভিযানে এআই ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষ করে ভেঙেজুয়েলা-য় মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই সময়ই প্রকাশ্যে আসে যে ‘ক্লড’ নামের এআই মডেল কৌশলগত তথ্য বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়েছিল।যদিও এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সরকারি ভাবে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি এক সময় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যানথ্রোপিক সংস্থার টানাপড়েনের কথাও সামনে আসে।সূত্রের দাবি, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতেও ‘ক্লড’ বিশ্লেষণ করে দিয়েছে কোন কোন জায়গা কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় হাজারটি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং হামলার অনুমোদন সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে।প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এআই আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, কৌশল নির্ধারণ এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হয়ে উঠছে। ফলে আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে দ্রুত।

