রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাঙালির দৈনন্দিন জীবনে চা যেন এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। দিনের শুরুতে ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে আড্ডা, অফিসের কাজের ফাঁক সব ক্ষেত্রেই এক কাপ গরম চা অনেকের কাছে অপরিহার্য। কিন্তু এই প্রিয় পানীয়টিই যদি মাত্রাতিরিক্ত পান করা হয়, তবে তা শরীরের জন্য, বিশেষ করে কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে চা পান শরীরের তেমন ক্ষতি করে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে উপকারও করে। কিন্তু অতিরিক্ত বা খুব ঘন চা নিয়মিত পান করলে তা ধীরে ধীরে কিডনির কার্যকারিতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকিও বাড়ে।অক্সালেট জমে কিডনিতে পাথর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চায়ের মধ্যে অক্সালেট নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে। অতিরিক্ত চা পান করলে শরীরে এই অক্সালেটের মাত্রা বাড়তে থাকে। পরে এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি করে। এই ক্রিস্টালই অনেক সময় কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ক্যাফেইনের কারণে ডিহাইড্রেশন চায়ের আরেকটি উপাদান হল ক্যাফেইন। এটি একটি মূত্রবর্ধক উপাদান, যার ফলে শরীরে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। যদি এই সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা হয়, তাহলে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কিডনির উপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং তার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।কিডনির ওপর বাড়তি চাপ চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চা নিয়মিত পান করলে কিডনিকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি কেউ নিয়মিত অতিরিক্ত চা পান করেন এবং শরীরে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
যেমন অস্বাভাবিক প্রস্রাব : ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।প্রস্রাবের রং পরিবর্তন : প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা লালচে হয়ে যাওয়া, যা কখনও কখনও রক্তের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।শরীরে ফোলাভাব : চোখ, মুখ, পা বা গোড়ালিতে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দেওয়া।পিঠ বা কোমরের ব্যথা : কোমরের নিচে বা পাশে দীর্ঘক্ষণ ব্যথা অনুভব হওয়া।অতিরিক্ত ক্লান্তি : বারবার দুর্বলতা, অবসাদ বা মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া।এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, চা পানের অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে চা পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ। সাধারণত দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি চা না খাওয়াই ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।কারণ, চা যতই প্রিয় হোক না কেন, সুস্থ কিডনি ছাড়া শরীরের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই অভ্যাসের দিকে নজর রাখা এখনই জরুরি।

