রাতদিন ওয়েবডেস্ক : যুদ্ধের আতঙ্কে কয়েকটা দিন কাটল উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। অবশেষে ছেলে নিরাপদে দেশে ফিরতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন জনপ্রিয় গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচাৰ্য । ইরান–ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবাইয়ে আটকে পড়েছিলেন তাঁর ছেলে জয় ভট্টাচাৰ্য । প্রায় তিন দিন উদ্বেগে কাটানোর পর দেশে ফিরে এসেছেন জয়।
জয় জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি কাজের সূত্রে দুবাই গিয়েছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ মার্চ তাঁর ভারতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হয়ে যায় ইরান এবং ইজ়রায়েল -এর সংঘাত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বাধ্য হয়ে কয়েক দিন সেখানেই আটকে থাকতে হয় তাঁকে। অবশেষে ৪ মার্চ আকাশপথ খুলতেই দেশে ফিরতে সক্ষম হন জয়।দুবাইয়ে সেই সময়ের পরিস্থিতি যে কতটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, তা নিজের অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন তিনি। জয় বলেন, একটি বহুতল হোটেলে উঠেছিলেন তিনি। সেখানকার ঘর থেকেই মাঝেমধ্যেই আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যেতে দেখেছেন। এমনকি বিস্ফোরণের শব্দও শুনতে পেয়েছেন হোটেলের লাউঞ্জ থেকে। দিনের বেলা অনেক সময় মোবাইলে সতর্কবার্তাও পাঠানো হত, যাতে সবাই হোটেল বা ঘরের ভিতরেই নিরাপদে থাকেন।এই পরিস্থিতিতে ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে ছিলেন বাবা অভিজিৎ। তিনি জানান, নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখতেন ছেলের সঙ্গে। গায়কের কথায়, “জয় দুবাইয়ে পৌঁছনোর পরেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তিন দিন ধরে বিমান চলাচল বন্ধ। ছেলে দেশে ফিরতে পারছে না আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম।”
ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে হোটেল বদলানোর পরামর্শও দেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, সেই সময় তিনি জয়কে হোটেল ছেড়ে পরিচিত এক বন্ধুর বাড়িতে উঠে যেতে বলেন। পরে জয় জুমেইরাহ বিচ এলাকার এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।জয় আরও জানিয়েছেন, সেই সময় দুবাইয়ের ইউনাইটেড স্টেটস এমবাসই ইন দুবাই-এর কাছেও একটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যার অভিঘাত তিনি অনুভব করেছিলেন। যদিও নিয়মিত দুবাইয়ে যাতায়াত থাকায় স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তেমন অসুবিধা হয়নি তাঁর। তবে তাঁর মতে, যাঁরা নিয়মিত বিদেশ সফর করেন না, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছিল।বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হতেই দেশে ফিরে আসেন জয়। তিনি জানান, মূলত কাজের সূত্রেই দুবাই গিয়েছিলেন এবং আরও কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সব পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।ছেলে নিরাপদে দেশে ফিরতেই স্বস্তি পেয়েছেন অভিজিৎ ও তাঁর পরিবার। গায়ক বলেন, “প্রভু জগন্নাথ দেবের কৃপা, ছেলে নিরাপদে বাড়িতে ফিরেছে। বাবা তো, তাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম।” পরে জয় দেশে ফেরার পর সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা আবেদনও সরিয়ে নেন তিনি। এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি ছেলে নিরাপদে ঘরে ফিরেছে।

