রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ফের বড় প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার কারণে একাধিক আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তারই জেরে শুক্রবারও কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ও কলকাতায় আসা কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে খবর, পরিষেবা কবে নাগাদ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদিন কলকাতা থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন শহরে যাওয়ার মোট চারটি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে দুবাই, দোহা এবং আবু ধাবিগামী উড়ান। একই সঙ্গে ওই শহরগুলি থেকে কলকাতায় আসার কথা ছিল এমন আরও তিনটি বিমানও বাতিল করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে মোট সাতটি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে।এদিন বাতিল হওয়া উড়ানগুলির মধ্যে রয়েছে এয়ার আরবিয়া , ইতিহাদ এয়ারওয়েজ , কাতার এয়ারওয়েজ এবং এমিরাটেস-এর বিমান। এই সংস্থাগুলির উড়ান সাধারণত প্রতিদিন কলকাতা থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই উড়ানগুলি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলি।বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে দুবাই যাওয়ার শেষ বিমানটি উড়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তারপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় একাধিক উড়ান বাতিল হচ্ছে। দুবাই বিমানবন্দর সাধারণত ইউরোপ ও এশিয়ার বহু দেশের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় তার প্রভাব কলকাতা বিমানবন্দরেও পড়েছে।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ বিমান যাত্রীরা। অনেকেরই বিদেশে কর্মস্থল রয়েছে, আবার কেউ কেউ ভ্রমণ বা ব্যবসার কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। হঠাৎ করে উড়ান বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে জানতে পারছেন যে তাঁদের নির্ধারিত উড়ান বাতিল হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।বিমান সংস্থাগুলির তরফে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীরা যেন নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট বা অনলাইন পোর্টালে উড়ান সংক্রান্ত আপডেট দেখে নেন। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় উড়ানে দেরি হতে পারে, এমনকি হঠাৎ করেও উড়ান বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ইরান ইসরায়েল এবং -এর মধ্যে সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। আকাশপথে ড্রোন হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। নিরাপত্তার কারণে বেশ কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তবে সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে ধীরে ধীরে দুবাইয়ে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার থেকে দোহা ও আবু ধাবিতেও আংশিক বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবু পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। তাই আগামী কয়েকদিন বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

