রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রুদ্ধশ্বাস ইংল্যান্ড লড়াইয়ে -কে ৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট টীম । তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছিলেন দলেরই এক ক্রিকেটার। কোচ গৌতম গম্ভীর , অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব কিংবা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডেয়া নন ম্যাচের আগে দলকে উজ্জীবিত করেছিলেন পেসার আর্শীদীপ সিং ।বৃহস্পতিবার ওয়ানখেদে স্টেডিয়াম-এ ম্যাচ শুরুর আগে টিম হাডলে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন অর্শদীপ।
সেই কথাতেই তেতে উঠেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া -এর পক্ষ থেকে পরে সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।ভিডিয়োতে দেখা যায়, ম্যাচের আগে মাঠে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দলের সকল ক্রিকেটার। সবাই অপেক্ষা করছেন অর্শদীপের জন্য। তিনি সামনে আসতেই নিস্তব্ধ হয়ে যান সতীর্থরা। এরপরই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলকে উজ্জীবিত করেন ভারতীয় পেসার।অর্শদীপ বলেন, “সকাল থেকে অনেক কথা হয়েছে। তাই আমি এখন একটাই কথা বলব। আমরা ভাল খেলছি। মাঠে নেমে উপভোগ করে খেলব।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বার্তাতেই যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় গোটা দল।তবে ‘উপভোগ’ করার অর্থ শুধুমাত্র নিজের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ রাখা নয় বলেও সতীর্থদের মনে করিয়ে দেন তিনি। অর্শদীপ বলেন, “উপভোগ মানে এই নয় যে নিজের ৫০ রান করে আউট হয়ে গেলাম বা চার ওভার বল করে দায়িত্ব শেষ। আমাদের দাপট দেখাতে হবে। যার দিন থাকবে, সে ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা করবে।”দলের যাঁরা সেই সময় ভাল ফর্মে নেই, তাঁদের জন্যও আলাদা করে বার্তা দেন অর্শদীপ। তিনি বলেন, “যার দিন নয়, সে চেষ্টা করবে ফর্মে ফিরতে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে ইচ্ছা থাকলেই উপায় পাওয়া যায়। আমাদের সেই উপায় বার করতে হবে।”
এর পরেই হালকা মজার ছলে পরিবেশটা আরও ফুরফুরে করে দেন ভারতীয় পেসার। তিনি বলেন, “আমার ইংরেজি এখানেই শেষ। এবার মাঠে নেমে উপভোগ করো।” তাঁর এই কথায় হাসির রোল ওঠে টিম হাডলে।মাঠে নামার পর সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যায় ভারতীয় দলের খেলায়। ব্যাট হাতে প্রত্যেকেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন। দলের ব্যাটাররা ধীরে ধীরে রান তোলেন এবং একটি লড়াইযোগ্য স্কোর গড়ে তোলেন।পরে বল হাতে নেমেও চাপের মুহূর্তে দারুণ সংযম দেখান ভারতীয় বোলারেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে, তখনও ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ৭ রানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত।ক্রিকেট মহলের মতে, ম্যাচের আগে অর্শদীপের সেই ছোট্ট বক্তৃতাই দলের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল। চাপের ম্যাচে ফুরফুরে মেজাজে খেলাই যে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি সেটাই যেন আবারও প্রমাণ করল ভারতীয় দল।

