রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ফের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কে আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে দুশ্চিন্তা ও ভয় থেকেই চরম সিদ্ধান্ত নেন ওই যুবক। কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার পর কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে কোচ বিহার জেলার কোচ বিহার I ব্লক -এর মধুপুর অঞ্চলের কালপানি গ্রামে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।মৃত যুবকের নাম সামিনুর মিঁয়া। বয়স মাত্র ৩০ বছর।
তিনি কল্পনি ভিল্লাগে -এর বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভোটার তালিকার চূড়ান্ত তালিকায় নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে থেকে যাওয়ায় চরম মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। সেই দুশ্চিন্তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামিনুররা মোট পাঁচ ভাইবোন। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় তাঁদের পরিবারের কাছে একটি শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশে দাবি করা হয়, তাঁদের বাবা-মায়ের সঙ্গে মোট ছয়জন সন্তানের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ পরিবারের দাবি অনুযায়ী পাঁচ ভাইবোন হলেও তালিকায় অতিরিক্ত একজনের নাম যুক্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শুনানিতে উপস্থিত হয় সামিনুরের পরিবার। সেখানে তাঁরা সমস্ত নথি ও প্রমাণ পেশ করেন। পরিবারের দাবি, তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তাঁদের পরিবারে পাঁচজন সন্তানই রয়েছে। শুনানির সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।কিন্তু এরপর যখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় সামিনুরের বাবা-মায়ের নাম তালিকায় থাকলেও পাঁচ ভাইবোনের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সামিনুর।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিজের নাম ভোটার তালিকায় অনিশ্চিত অবস্থায় থাকায় তিনি চরম উদ্বেগে ভুগছিলেন।পরিবারের অভিযোগ, সেই আতঙ্ক থেকেই দু’দিন আগে কীটনাশক পান করেন সামিনুর। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁকে ভর্তি করা হয় মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল -এ। সেখানে কয়েকদিন ধরে চিকিৎসা চলছিল তাঁর।তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা পরিবার ও এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্ক এবং ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

