রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ভেঙে পড়ল একটি পুরনো বাড়ির ছাদের একাংশ। অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়ালেন বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ ইলিয়ট রোডের ওই বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। বাসিন্দাদের দাবি, গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের জেরেই বাড়িটি ভিতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে বলে তাঁদের অনুমান।
স্থানীয়দের বক্তব্য, বহু পুরনো এই বাড়ির বিভিন্ন অংশে আগেই পলেস্তারা খসে পড়ছিল। তবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না যে বাড়িটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করতে হবে। ঘটনার সময় বাড়ির ভিতরে কেউ ছিলেন না বলেই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, “সকালবেলা আমরা কেউই ওই ঘরে ছিলাম না। এক-দু’মিনিট এ দিক-ও দিক হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারত। ভাগ্য ভাল যে কেউ আহত হয়নি।” তাঁদের দাবি, শুক্রবারের কম্পনের পর থেকেই বাড়ির কিছু অংশে চিড় দেখা দিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাদ ভেঙে পড়লেও ভিতরে কেউ আটকে পড়েননি। সেই কারণে দমকল বিভাগকে খবর দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। কী কারণে ছাদ ধসে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে দিয়ে বাড়িটির কাঠামোগত স্থিতি পরীক্ষা করানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা। কম্পন অনুভূত হয় একাধিক জেলাতেও। মার্কিন ভূকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড স্ট্যাটাস গেওলোজিকাল সার্ভে–এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল মাটি থেকে প্রায় ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে National Center for Seismology জানিয়েছে, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা, যা কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে। ভূমিকম্পের পর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আতঙ্ক ছড়ায়। গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ৩৪এ মেটকাফ স্ট্রিটের একটি বহুতল হেলে পড়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন। যদিও ওই বহুতলের বাসিন্দা এবং অন্য একাংশের দাবি, বাড়িটি বহু বছর ধরেই একই অবস্থায় রয়েছে। পরে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে জানানো হয়, প্রায় ২০ বছর ধরেই ভবনটি ওই অবস্থায় রয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে নতুন করে হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। ইলিয়ট রোডের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, শহরের বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ বাড়ির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে। বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরনো বাড়িগুলির ভিতরের দুর্বলতা আরও প্রকট করে তুলছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

