রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে ভারত আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে জারদারি এই অভিযোগ করেন এবং ভারতের নেতাদের যুদ্ধের পথ থেকে সরে এসে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান।
বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর প্রবল বিক্ষোভ ও স্লোগানবাজির মধ্যেই জারদারি তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, ভারতীয় নেতৃত্ব ক্রমাগত যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করছেন, যদিও তিনি নিজে সারাজীবন আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন এবং এই পরিস্থিতিতে ভারতকে কোনোভাবেই যুদ্ধের পথে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তার মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের একমাত্র পথ হলো অর্থবহ আলোচনা এবং যুদ্ধের উন্মাদনা ত্যাগ করা। উল্লেখ্য যে, এই অভিযোগটি এমন এক সময়ে এল যখন গত কয়েক বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের চালানো 'অপারেশন সিন্দুর'-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। জারদারি তার ভাষণে সিন্ধু জল চুক্তির বিষয়টিও উত্থাপন করেন এবং অভিযোগ করেন যে ভারত জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে 'জল-সন্ত্রাস' বা হাইড্রো-টেররিজম চালাচ্ছে, যা পাকিস্তানের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি।
কাশ্মীর ইস্যু সম্পর্কে তিনি পুনরায় পাকিস্তানের চিরাচরিত অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন যে, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি স্থাপন সম্ভব নয় এবং পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণের প্রতি তাদের কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন বজায় রাখবে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতেই জারদারি ভারতের বিরুদ্ধে এই কাল্পনিক যুদ্ধের জুজু দেখাচ্ছেন। ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ধরনের অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া হয়নি, বরং ভারত বরাবরই সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে আলোচনার পক্ষপাতী। একদিকে যখন পাকিস্তান পশ্চিম সীমান্তে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত এবং ড্রোন বা বিমান হামলা চালাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখার একটি কৌশল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পরিশেষে, আসিফ আলি জারদারির এই বক্তব্য ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতাকে আরও উসকে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নিবদ্ধ।

