রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এলাকায় একটি গ্যারাজে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ বজবজ পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা ডিপো সংলগ্ন এলাকায় শেখ নিজামউদ্দিনের মালিকানাধীন একটি গ্যারাজে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় গ্যারাজটিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের মেরামতির কাজ চলছিল এবং সেই ট্যাঙ্কারে ঝালাই বা ওয়েল্ডিং করার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছিল।
কাজ চলাকালীন হঠাৎই প্রচণ্ড শব্দে সিলিন্ডারটি ফেটে যায় এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গ্যারাজের ওপরের টিনের ছাউনি মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দেখেন গ্যারাজটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনায় দু'জন ব্যক্তি গুরুতরভাবে জখম হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বজবজ থানার পুলিশ বাহিনী এবং তারা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বজবজ ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে ওই ১৪ বছর বয়সী কিশোরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঝালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা অসাবধানতার কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে, তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে ওই গ্যারাজটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছিল কি না এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিপজ্জনক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না। এদিকে, ওই কিশোরের অকাল মৃত্যুতে ময়লা ডিপো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যারাজ মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় নিরাপত্তার দাবি তুলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিস্ফোরণের তীব্রতা ও গ্যারাজের কাঠামোগত ক্ষতি খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শ নেওয়া হতে পারে। দিনদুপুরে এমন জনবহুল স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমগ্র বজবজ এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনাস্থলটি ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে তদন্তে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। নিহত কিশোরের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে গ্যারাজ মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

