রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আজ ১৩ মার্চ ২০২৬, কলকাতার বাজারে সোনা ও রূপোর দামে এক বিশেষ অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনের প্রভাব। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা থাকলে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকেই ঝোঁকেন বিনিয়োগকারীরা, যার ফলে দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আজ কিছুটা ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে সপ্তাহের শেষে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতায় সাধারণত সোনা কেনাবেচার ক্ষেত্রে হলমার্কযুক্ত ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট গয়নার চাহিদাই সবথেকে বেশি থাকে।
আজ বাজারে সোনার সঠিক দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতীয় শুল্ক কাঠামো এবং স্থানীয় গয়না ব্যবসায়ীদের মেকিং চার্জও বড় ভূমিকা পালন করছে। সোনার বিশুদ্ধতা পরিমাপের ক্ষেত্রে 'ক্যারেট' বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেমন ২৪ ক্যারেট সোনা বলতে ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি সোনা বোঝানো হয় যা মূলত বাট বা কয়েন হিসেবে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে গয়না তৈরির জন্য ২২ ক্যারেট সনাই আদর্শ কারণ এতে ৯২ শতাংশ খাঁটি সোনার সাথে কিছুটা খাদ মেশানো থাকে যাতে গয়না মজবুত হয়। এছাড়াও বাজারে ১৮ ক্যারেট এবং ১৪ ক্যারেট সোনাও পাওয়া যায় যা হিরের গয়না বা হালকা ওজনের গয়নার জন্য ব্যবহৃত হয়। আজকের বাজারে সোনা কেনার আগে ক্রেতাদের অবশ্যই বিআইএস হলমার্ক দেখে নেওয়া উচিত, কারণ হলমার্ক চিহ্নটি সোনার বিশুদ্ধতার গ্যারান্টি দেয় এবং সেখানে সোনার ক্যারেট ও শনাক্তকরণ চিহ্ন খোদাই করা থাকে। রূপোর ক্ষেত্রেও আজ বাজারে একটি নির্দিষ্ট দামের সীমা বজায় রয়েছে, যা মূলত রূপোর বাসন বা অলঙ্কার ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হওয়ার আবহে সোনার দামে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে, তাই বর্তমান দামের পতনকে অনেক সাধারণ ক্রেতাই গয়না কেনার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, খুচরো বাজারে সোনার দামের সাথে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং দোকানভেদে আলাদা মেকিং চার্জ যুক্ত হয়, যার ফলে প্রকৃত বিক্রয় মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিনের এই দর ওঠানামার পেছনে মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মজুত ভাণ্ডারের প্রভাবও অপরিসীম। তাই আজ শুক্রবারের এই বাজারে পা রাখার আগে বা গয়না বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রেতাদের উচিত বর্তমান বাজারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া। সপ্তাহান্তে এই দামের নিম্নমুখী প্রবণতা যদি বজায় থাকে, তবে কলকাতার বড়বাজার থেকে শুরু করে বউবাজারের সোনার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সোনার দোকানে যাওয়ার আগে ফোনের মাধ্যমে বা নির্ভরযোগ্য পোর্টাল থেকে বর্তমান 'বায়ার্স রেট' এবং 'সেলার্স রেট' যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ যুদ্ধের আবহে বাজার যেকোনো সময় অস্থির হয়ে উঠতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, সোনা শুধু একটি অলঙ্কার নয় বরং চরম আর্থিক সংকটে একটি নির্ভরযোগ্য সম্পদ, তাই বিশুদ্ধতা যাচাই করে হলমার্ক দেখে বিনিয়োগ করাই আজকের দিনে সবথেকে নিরাপদ।

