Type Here to Get Search Results !

Paschim Medinipur : ছুটিতে শিক্ষিকা, তালাবন্ধ দশায় মেদিনীপুরের প্রাথমিক স্কুল

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল ব্লকের ইড়পালা মুণ্ডুতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে এক নজিরবিহীন ও চরম সংকটের ছবি সামনে এসেছে, যেখানে একমাত্র শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে কার্যত পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে রয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ জন পড়ুয়া প্রতিদিনের মতো ব্যাগ কাঁধে স্কুলে আসলেও, ক্লাসরুমে কোনো শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে শেষপর্যন্ত চোখের জল মুছে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এই বিদ্যালয়ে মাত্র একজনই শিক্ষিকা ছিলেন এবং তিনি বর্তমানে ছুটিতে থাকায় বিদ্যালয়টি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প শিক্ষকের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি যদিও স্থানীয় একজন গ্রামবাসী দয়া করে স্কুলের তালা খোলা ও বন্ধ করার দায়িত্ব পালন করছেন যাতে অন্তত চত্বরটুকু ব্যবহারযোগ্য থাকে। অভিভাবকদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে, কারণ তাঁদের শিশুদের শিক্ষাজীবন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে এবং তাঁরা দ্রুত স্থায়ী বা বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যালয় পরিদর্শক   বহ্নিশিখা দে এই সমস্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, একজনকে ডেপুটেশনে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি যোগদান না করায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাটি রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটিকে আরও একবার জনসমক্ষে এনেছে, যেখানে শিক্ষকের অভাবে একটি আস্ত স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিতে নজর না দিয়ে অন্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বেশি আগ্রহী, অন্যদিকে ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিকাশ কর এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে কচিকাঁচাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে, তা মেদিনীপুরের এই প্রান্তিক গ্রামের প্রতিটি ঘরে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে শিক্ষার অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে, সেখানে শুধুমাত্র একজন শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এভাবে অচল হয়ে থাকা প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই প্রকট করে তোলে। যদি অতি দ্রুত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করা হয়, তবে এই দীর্ঘ বিরতি পড়ুয়াদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে এবং স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রামবাসীর দাবি, শুধুমাত্র কাগজে-কলমে আশ্বাস নয়, অবিলম্বে ক্লাসরুমে শিক্ষক চাই যাতে খুদে পড়ুয়ারা আবার তাদের স্বাভাবিক ছন্দে পড়াশোনা শুরু করতে পারে এবং বিদ্যালয়ের ঘণ্টা যেন নিয়মিতভাবে সঠিক সময়ে বেজে ওঠে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন দেখার বিষয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ও রাজ্য শিক্ষা দপ্তর কত দ্রুত এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ইড়পালা মুণ্ডুতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার আলো পুনরায় জ্বালিয়ে তুলতে পারে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad