রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হাওড়া পিলখানায় প্রোমোটার খুন প্রতিবাদে গোলাবাড়ি থানায় বিক্ষোভ, লাঠিচার্জ ও উত্তেজনা।হাওড়ার পিলখানা এলাকায় প্রোমোটার সৌফিক খান খুন মামলার প্রতিবাদে গত শনিবার বিকেলে উত্তর হাওড়ার গোলাবাড়ি পুলিশ স্টেশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বাম সংগঠনগুলোর কর্মী-সমর্থকরা। ওই আন্দোলনে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি সম্পর্কে রাতভর উত্তেজনা তৈরির খবর এসেছে। স্থানীয় সংবাদ অনুযায়ী, সালকিয়া সম্মিলনী পার্ক থেকে একটি মিছিল বের হয়েছিল।
বাম সংগঠন এসএফআই (সপ্তম ফ্রন্ট ইন্ডিয়া) এবং ডিওয়াইএফআই (দলের যুব সংগঠন)–এর কর্মী-সমর্থকেরা গোলাবাড়ি থানার সামনে জড়ো হয়ে দাঁড়ান। তারা পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ তৎপর ছিল এবং চেষ্টা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার। এই বিক্ষোভের পেছনে মূল কারণ ছিল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার পিলখানা এলাকায় ঘটানো খুনের ঘটনা ও তার তদন্তে পুলিশের ক্ষেত্রে গাম্ভীর্যের অভাব। পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে এবং খুনের জন্য ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান ও রাফাকাত হোসেন (রোহিত) এখনও অধরা রয়েছেন যদিও তদন্তভার রাজ্য ক্রিমিনাল তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ধৃত মহম্মদ ওয়াকিলের বউবাজারের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে, যা খুনের ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত। এই অস্ত্রগুলি মূল সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ওয়াকিল ট্যাংকে লুকিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ। খুনের ঘটনার সময় ২৭ বছর বয়সী সৌফিক খান পিলখানায় বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে পয়েন্ট-খালি গুলিতে হত্যা করা হয়েছিল যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। ঘটনার পর খুনের মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত দ্রুতই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের ধারণা। তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। গোলাবাড়ি থানার সামনে চলা প্রতিবাদে বাম সংগঠনগুলোর নেতা-মহিলারা দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য তল্লাশি ও তদন্তে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাঁরা আরও বলেন, মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠবে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

