রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন ভারতকে আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত যে এক বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে, তা সম্প্রতি জনসমক্ষে এসেছে, মূলত, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে যেন দেশের সাধারণ মানুষ বা অর্থনীতির ওপর প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যে ভারত এখন ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করছে।
আগে ভারত মূলত হাতেগোনা কয়েকটি ওপেকের (OPEC) মধ্যপ্রাচ্যের দেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভারত তার তেলের উৎসের ব্যাপক বিস্তার ঘটিছে। ভারত এখন প্রায় ৪০টি ভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) সংগ্রহ করছে। এর মধ্যে প্রথাগত বন্ধু দেশগুলোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজারকেও যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈচিত্র্য আনার মূল কারণ হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে যুদ্ধ বা অস্থিরতা তৈরি হলেও যেন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। ঘুরপথে' তেল আনা ও কূটনীতি বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি অনেক দেশ থেকে তেল আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা থাকার সত্ত্বেও ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনা, দেশের স্বার্থে যেখান থেকে সস্তায় এবং সহজে তেল পাওয়া সম্ভব, ভারত সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করার নীতি বজায় রেখেছে। জ্বালানি কূটনীতি ভারতের এই 'ঘুরপথে' বা বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আনার কৌশলটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রমাণ। জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। পর্যাপ্ত মজুদ এবং বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে দেশে তেলের কোনো ঘাটতি হবে না। দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণত পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই কৌশলী পদক্ষেপের ফলে- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ কম পড়বে। শিল্প উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে দেশের কলকারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থা সচল থাকবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ভারত এখন আর নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা জোটের ওপর নির্ভরশীল নয়। মোদী সরকারের এই বহুমুখী আমদানি নীতি এবং শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা থেকে ভারতকে একটি 'সুরক্ষাকবচ' প্রদান করছে।

