Type Here to Get Search Results !

Election commissionor bengal visit : মঠে প্রণাম ও রাজপথে বিক্ষোভ তপ্ত বাংলায় নির্বাচন কমিশনারের ঘটনাবহুল সফর

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার মুখে রাজ্য সফরে আসা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ঘটনাবহুল তিন দিনের সফর এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ বর্তমান বঙ্গ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার বেলুড় মঠে উপস্থিত হন, যেখানে তিনি মূল মন্দির দর্শন করার পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দজি মহারাজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ ও আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। 

প্রায় ৪৫ মিনিটের এই আধ্যাত্মিক সফর শেষে মঠ চত্বর থেকেই তিনি রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে ঘোষণা করেন যে, কমিশন আসন্ন নির্বাচনে বিন্দুমাত্র হিংসা বা অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করবে না এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে এই প্রশাসনিক দৃঢ়তার সমান্তরালে রাজপথে তাকে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে; বেলুড় থেকে দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার পথে এবং তার আগের দিন কালীঘাটে তাকে কালো পতাকা প্রদর্শন ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ হলো, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এই বিক্ষোভের আবহেও জ্ঞানেশ কুমার নিজের প্রশাসনিক কাজে অবিচল থেকে বিএলও এবং পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক সেরেছেন। 

কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মনে করছে যে, বিক্ষিপ্ত কিছু সমস্যা থাকলেও রাজ্যে বিধানসভা ভোট করানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশ বর্তমানে বিদ্যমান। কিন্তু কমিশনের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একমত হতে পারছে না। বরং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা সংসদের উভয় কক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। যেহেতু এটি একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক পদ, তাই এই প্রক্রিয়ার জন্য অন্তত ১০০ জন সাংসদের সমর্থিত স্বাক্ষরের প্রয়োজন, যা সংগ্রহের জন্য তৃণমূল এখন সমমনোভাবাপন্ন বিরোধী দলগুলোর দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে। একদিকে অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের চরম আইনি পদক্ষেপের এই সংঘাত রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে এক নজিরবিহীন জটিলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad