রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাজ্য সরকারের যুবশ্রী বা বেকার ভাতা প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে চালু হয়েছে 'বাংলার যুবসাথী' মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের সাহায্যে আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রকল্পের জন্য কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ বা নির্দিষ্ট সরকারি দফতরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে হতো, কিন্তু ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও ই-গভর্ন্যান্সের যুগে সেই ভোগান্তি কমাতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তত মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।
তবে মনে রাখা জরুরি, যারা ইতিমধ্যেই 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' বা 'কৃষক বন্ধু'র মতো কোনো সরকারি আর্থিক সাহায্য বা পেনশন পাচ্ছেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না যদিও কোনো শিক্ষামূলক স্কলারশিপ বা বৃত্তি পেলে আবেদনের ক্ষেত্রে বাধা নেই। অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য আবেদনকারীকে প্রথমে সরাসরি গুগল প্লে স্টোরে না খুঁজে সরকারি পোর্টাল 'ds.wb.gov.in'-এ গিয়ে 'বাংলার যুবসাথী' পেজ থেকে সরাসরি ডাউনলোড লিঙ্ক সংগ্রহ করতে হবে। প্রায় ৮.২৭ এমবি সাইজের এই অ্যাপটি ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীকে নিজের বৈধ মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে লগইন করতে হবে। মূল আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে তার নাম ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে, আধার নম্বর, জন্ম তারিখ, অভিভাবকের নাম এবং সঠিক জাতিগত শংসাপত্রের তথ্য প্রদান করতে হবে। এরপর বর্তমান ঠিকানা হিসেবে জেলা, ব্লক, থানা ও পিনকোড সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে মাধ্যমিকের বোর্ড, পাসের বছর ও রোল নম্বর নির্ভুলভাবে বসাতে হবে। অর্থনৈতিক লেনদেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এখানে আইএফএসসি কোড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর পাসবুক দেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে যাতে ভাতার টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে কোনো সমস্যা না হয়। পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে, যেখানে নির্দিষ্ট ফাইল সাইজ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং আপলোড সফল হলে স্ক্রিনে সবুজ সংকেত দেখা যাবে।
আবেদনের সময় বর্তমান পেশার জায়গায় অবশ্যই আন এমপ্লয়েড বা বেকার উল্লেখ করতে হবে এবং সব তথ্য যাচাইয়ের পর সেলফ ডিক্লারেশন-এ টিক দিয়ে ফাইনাল সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই একটি ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন আইডি জেনারেট হবে। এই আইডির মাধ্যমে পরবর্তীকালে অ্যাপের চেক স্ট্যাটাস অপশনে গিয়ে আবেদনের বর্তমান অবস্থা বা স্থিতি পরীক্ষা করা যাবে। রাজ্যজুড়ে যেখানে বেকার ভাতার জন্য উন্মাদনা তুঙ্গে এবং জেলা প্রশাসনের দফতরে ভিড় বাড়ছে, সেখানে এই মোবাইল অ্যাপটি সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনই সময় ও শ্রম দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে। মূলত গ্রামীণ ও শহরতলীর শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বনির্ভর হওয়ার পথে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দিতেই সরকারের এই প্রচেষ্টা, যা এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। আবেদনকারীরা যাতে কোনো ভুল না করেন, সেজন্য অ্যাপের ভেতর ধাপে ধাপে নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এই অ্যাপটি যুবসমাজের কাছে এক বড় প্রাপ্তি হিসেবেই গণ্য হচ্ছে, যা সরকারি পরিষেবাকে আমজনতার দরজায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের এক সফল দৃষ্টান্ত।

