রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আইসিসির সদ্য প্রকাশিত পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এক নাটকীয় মোড় দেখা গেছে, যেখানে ফর্মের তীব্র সংকটে থাকা সত্ত্বেও নিজের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছেন ভারতের তরুণ এবং বিধ্বংসী ওপেনার অভিষেক শর্মা। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় দেখা যাচ্ছে, চলমান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও পূর্বের অর্জিত বিশাল রেটিং পয়েন্টের সুবাদে অভিষেক এখনো বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
বর্তমানে অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট ৮৭৭, যা তাকে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের ৮১৫ পয়েন্ট চেয়ে ৬২ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। যদিও বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আমেরিকার বিরুদ্ধে গোল্ডেন ডাক কিংবা নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট ৮৯১ থেকে কমিয়ে ৮৭৭-এ নামিয়ে এনেছে, তবুও তার শীর্ষস্থান হারানোর মতো বড় কোনো হুমকি এই মুহূর্তে নেই। অভিষেকের এই অদম্য যাত্রার সূচনা হয়েছিল মূলত ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে তার অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে, যেখানে তিনি ৯৩১ রেটিং পয়েন্টের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অভিষেকের সতীর্থ এবং ভারতীয় দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার ঈশান কিষাণের অভাবনীয় উত্থান। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক অর্ধশতরান করার সুবাদে ঈশান তিন ধাপ এগিয়ে এখন বিশ্বের পাঁচ নম্বর ব্যাটারে পরিণত হয়েছেন ৭৪২ রেটিং পয়েন্ট, যা ভারতের ব্যাটিং শক্তির গভীরতাকে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে, র্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দিকে আরও কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পথে দুই ধাপ উপরে উঠে তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ৮১০ পয়েন্ট, আর লঙ্কান ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।
ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ৭৪০ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছেন এবং তিলক ভার্মা তিন ধাপ নেমে এখন সপ্তম স্থানে রয়েছেন। তবে ভারতীয় শিবিরের জন্য সুসংবাদ এখানেই শেষ নয়, কারণ বোলারদের তালিকায় বরুণ চক্রবর্তীও তার এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছেন, যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি কিছুটা রান বিলিয়েছিলেন। অলরাউন্ডার বিভাগে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা পুনরায় এক নম্বর স্থানে ফিরে এসেছেন, যা পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবের আধিপত্যে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেকের এই র্যাঙ্কিং ধরে রাখা একাধারে বিস্ময়কর এবং অনুপ্রেরণাদায়ক, কারণ ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তার সাম্প্রতিক ‘লিঙ্ক পিরিয়ড’ বা রান খরা সত্ত্বেও আগের গড়া রেকর্ডগুলো তাকে এক ধরনের ‘কুশন’ প্রদান করেছে, যা তাকে শীর্ষস্থানে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। তবে বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে এবং আসন্ন নক-আউট ম্যাচগুলোতে যদি অভিষেক তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ফিরতে না পারেন, তবে ফিল সল্ট বা সাহিবজাদা ফারহানের মতো ব্যাটাররা যে কোনো মুহূর্তে তাকে সিংহাসনচ্যুত করতে পারেন। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই এখন র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস দশ ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে আসা কিংবা শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়ার অবস্থানগত পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামনের সপ্তাহগুলোতে র্যাঙ্কিংয়ের লড়াই আরও তীব্রতর হবে। টিম ইন্ডিয়ার জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিষেকের মতো প্রতিভা যেন তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়, কারণ র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকলেই বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি জেতা নিশ্চিত হয় না। তবুও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অভিষেক শর্মার এই শীর্ষস্থান ধরে রাখা ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মের আধিপত্যেরই এক জ্বলন্ত স্বাক্ষর বহন করছে এবং এটি স্পষ্ট যে ভারতের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন এক নতুন যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে তরুণ তুর্কিরাই বিশ্ব ক্রিকেটের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন।

